EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

বাজারে স্বস্তি নেই

সবজি থেকে মাংস, সব পণ্যেই ঊর্ধ্বমুখী দাম; মিলছে না সয়াবিন তেল

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

বাজারে স্বস্তি নেই

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ। সবজি, ডিম, চাল, মাছ, মাংস- কোনো কিছুতেই স্বস্তি নেই। উপরন্তু বাজার থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেল।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

সবজির বাজারে কাঁকরোল ও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। বেগুন (গোল) ১২০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ১০০ টাকা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল প্রতিটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও করলার কেজি ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ১৬০ টাকায়। লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা, জালি ৬০ টাকা। তুলনামূলক সহনীয় মূল্যে রয়েছে কেবল ঢ্যাঁড়স (৬০ টাকা) ও মিষ্টি কুমড়া (৫০ টাকা)।

বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বাড়তি দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

ক্রেতারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘বাজারে এলে মনে হয় পকেট ডাকাতি হচ্ছে। আয় বাড়ে না, কিন্তু খরচ প্রতিদিনই বাড়ছে।’

ভোজ্যতেলের বাজারেও তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সংকট। সরবরাহকারীরা খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমিয়ে দেওয়ায় লিটারপ্রতি মাত্র ২ টাকা লাভে তেল বিক্রিতে অনীহা দেখাচ্ছেন ছোট দোকানিরা। ফলে পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে।

একই সঙ্গে গত দু-তিন সপ্তাহে চিনি, মসুর ডাল, প্যাকেটজাত গুঁড়া মশলা এবং পোলাওয়ের চালের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ডিম-মাংসেও স্বস্তি নেই

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম এখন ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগি উঠেছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

গরুর মাংস মানভেদে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে থেকেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। খাসির মাংসের কেজি ঠেকেছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

চাল ও মাছেও উদ্বেগ

চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। খুচরা পর্যায়ে মাঝারি মানের চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই দশা। এক কেজি ওজনের রুই বা কাতলার দাম উঠেছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। আগে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বলে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়াও এখন বিকোচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং সরকারি তদারকি না বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন