রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী, ভোক্তাদের ক্ষোভ
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
ছবি: মাহমুদ জামান অভি
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিনেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে বেগুন, শসা, লেবু ও কাঁচামরিচসহ প্রায় সব ধরনের ইফতারি সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আলুর দাম স্থিতিশীল থাকলেও মাছ, মাংস ও মুরগির বাজারেও চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই দিন আগেও যে দেশি শসা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ তা কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে ইফতারির অপরিহার্য উপাদান বেগুনের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১০০ টাকা ও ঢ্যাঁড়স ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শীতকালীন সবজির দামও কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে লেবুর বাজারে। মানভেদে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া ধনেপাতা ও পুদিনা পাতার দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ক্যাপসিকামের দাম কমে ১২০-২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
মাংসের বাজারে দেখা গেছে বাড়তি দামের প্রভাব। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ঠেকেছে ১২০০ টাকায়। মুরগির বাজারে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশের কেজি ১০০০ টাকা এবং রুই মাছ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং ও মাগুর মাছের দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।
বাজারে পেঁয়াজ ও ডালের দামও উচ্চমূল্যে স্থির রয়েছে। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার ডাল ও বেসনের দামও রমজান উপলক্ষে চড়া। তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে; লাল ডিমের ডজন ১০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা শওকত হোসেন নামে এক বেসরকারি চাকুরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা, নয়তো সাধারণ মানুষের ইফতার জোটানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
