EN ☀️
×

Follow Us

প্রবাস

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি, ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ এএম

কানাডায় ভিসা জালিয়াতি, ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

কানাডায় ভুয়া নথি ব্যবহার করে ভিজিট ভিসা আবেদনের মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (সিবিএসএ)। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অপর একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডা সরকার।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির করা হয় অভিযুক্ত চার বাংলাদেশিকে। তারা হলেন রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুচ্ছাদের আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। এ মামলার পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই মার্সিয়ার শহরের একটি বেসরকারি বাসভবনে আকস্মিক পরিদর্শন চালান সংস্থাটির কর্মকর্তা, স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা। এ সময় কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে আসে। এর পর ওই বছরের আগস্টে সন্দেহভাজনদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিক অপরাধ তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ।

তদন্তে উঠে আসে, কানাডার স্থানীয় নাগরিকদের ‘হোস্ট’ বা আশ্রয়দাতা হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নামে মোট ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসিক ভিসা বা ভিজিট ভিসার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এসব আবেদনে জাল নথিপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের কানাডায় প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশের চারটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করে সিবিএসএর অপরাধ তদন্ত দল। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্তের পর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে—এমন ৭৯টি টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা (টিআরভি) আবেদনকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করে ব্যক্তিদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করা, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিতে অন্যকে প্ররোচিত করা এবং জেনেশুনে আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করা।

কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাংরি বলেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যারা জালিয়াতির মাধ্যমে এ ব্যবস্থার অপব্যবহার বা দুর্বল করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় সিবিএসএর কর্মীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

কুইবেক অঞ্চলে সিবিএসএর আঞ্চলিক মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, এ তদন্ত প্রমাণ করে, কানাডার অভিবাসনব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাওয়া চক্রগুলোকে শনাক্ত ও দমনে সংস্থাটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অপরাধ তদন্তকারীদের প্রচেষ্টা অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

সিবিএসএ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, প্রবেশন, কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অভিবাসন আইনের বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় ১৯১টি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে সিবিএসএ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৫৫টি তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র: কানাডা সরকারের ওয়েবসাইট ও সিবিএসএ

আরও পড়ুন