EN ☀️
×

Follow Us

প্রবাস

বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার আহ্বান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০ পিএম

বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস, আঙ্কারার উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্কের অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তুরস্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

সভায় রাষ্ট্রদূত এম. আমানুল হক তুরস্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. শফিক উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তুরস্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংখ্যায় ছোট হলেও প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রবাসীদের প্রথম দায়িত্ব হলো তুরস্কের আইন, বিধিবিধান ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নিজেদের আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহারের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো প্রচারণা বা বক্তব্য প্রচার ও সমর্থন না করারও পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনসংক্রান্ত প্রতারণার বিষয়ে প্রবাসীদের সতর্ক করেন। মিথ্যা আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করলে তুরস্কের আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ডসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে তিনি জানান।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের আহ্বানও জানান এম. আমানুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রবাসী নাগরিকদের এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, যা তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁদের মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রবাসীদের প্রস্তাবের মধ্যে ছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণ সহজ করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং তুরস্কের টেকনোপার্কের আদলে বাংলাদেশে কার্যক্রম গ্রহণ।

এ ছাড়া তুর্কি নির্মাতাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে শিল্পধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা বিনিময়, পণ্য পরিবহনের সময় কমানো এবং বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আরও বেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে দেশের পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাবও দেন প্রবাসীরা।

সভায় দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বাংলাদেশ–তুরস্ক বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, যৌথ উদ্যোগ ও বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বিটুবি) যোগাযোগ বৃদ্ধিতে দূতাবাসের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে প্রবাসীদের অবহিত করেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন