প্রিন্টঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশঃ ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিতের মার্কিন সরকারের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার দেওয়া রায়ে ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেছেন, এ ধরনের নীতি গ্রহণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানুয়ারিতে যে ভিসা স্থগিতের নীতি ঘোষণা করেছিল, তা ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ক্ষমতা নেই, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায়। আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা নিষিদ্ধ করার নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অগ্রাহ্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
গত জানুয়ারি থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই নীতি কার্যকর ছিল। এর আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশের নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াও ছিল। এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছিল।
তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর ফলে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
তবে আদালত শুক্রবারের রায়ে এই নীতিকে সরকারের আইনগত ক্ষমতার সীমার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এদিকে রায় নিয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি সংগঠন এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ভিসার আবেদনকারী অভিবাসী এবং নির্ধারিত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও অংশ নেন।
মামলাটি শুনানি শেষে বিচারক জেনেট ভার্গাস ভিসা স্থগিতের নীতিটি বাতিলের রায় দেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারক।
ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ অভিবাসীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল মার্কিন আদালতে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
শেয়ার করার বিকল্পগুলি
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিতের মার্কিন সরকারের নীতি বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার দেওয়া রায়ে ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেছেন, এ ধরনের নীতি গ্রহণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানুয়ারিতে যে ভিসা স্থগিতের নীতি ঘোষণা করেছিল, তা ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ক্ষমতা নেই, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায়। আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা নিষিদ্ধ করার নীতি আইনে নির্ধারিত ব্যবস্থাকে সরাসরি অগ্রাহ্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
গত জানুয়ারি থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই নীতি কার্যকর ছিল। এর আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭৫টি দেশের নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে এবং বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াও ছিল। এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছিল।
তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর ফলে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
তবে আদালত শুক্রবারের রায়ে এই নীতিকে সরকারের আইনগত ক্ষমতার সীমার বাইরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এদিকে রায় নিয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি সংগঠন এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় ভিসার আবেদনকারী অভিবাসী এবং নির্ধারিত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও অংশ নেন।
মামলাটি শুনানি শেষে বিচারক জেনেট ভার্গাস ভিসা স্থগিতের নীতিটি বাতিলের রায় দেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারক।
ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ অভিবাসীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।