আ. লীগের নাশকতার প্রতিবাদে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
এ সময় তারা ভাইয়েরা আমার কবরে, খুনিরা কেন বাহিরে, জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভরসহ নানা স্লোগান দেন।
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
জুলাইসহ সব গণহত্যার বিচার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ২টায় বাহাদুরশাহ পার্ক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাহাদুরশাহ পার্কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
‘শিক্ষার্থীবৃন্দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ব্যানারে হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
এ সময় তারা ভাইয়েরা আমার কবরে, খুনিরা কেন বাহিরে, বিচার বিচার বিচার চাই, গণহত্যার বিচার চাই, জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর, লীগ ধর, জেলে ভরসহ নানা স্লোগান দেন।
এ সময় জবি ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, ৫ তারিখের পর এমন একটা কর্মসূচি নিতে হবে ভাবিনি। যারা গণহত্যা চালিয়েছে তারা এক সময় লকডাউন দেবে এটা আমাদের কল্পনায় ছিল না। ইনটেরিম সরকারের ব্যর্থতার কারণে তারা এই সুযোগ পেয়েছে। ইনটেরিম সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে আপনারা ঘুরে দাঁড়ান। যারা ফ্যাসিজম চালিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনুন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির জবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বলতে আর কিছু নেই। তারা গর্তে আছে, গর্তে থাকুক। এর থেকে যেন বের না হয়।
যারা লীগকে স্পেস দিতে চায় তাদেরকে বলি, তারা ৫ আগস্ট আপনারা কই ছিলেন? আজকে আওয়ামী লীগের কবর রচিত হয়েছে। যদি কেউ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করা হবে।
ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জবির প্রধান সংগঠক মাসুদ রানা বলেন, বিদেশে পালিয়ে থেকে শেখ হাসিনা কর্মসূচি দিয়েছেন, ঢাকা নাকি আজকে লকডাউন। জনগণ সেই লকডাউন প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার, হাসিনার চ্যাপ্টার বাংলাদেশে ক্লোজ হয়েছে গেছে।
যারা বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিজম কায়েম করতে চায় তাদের আশায় জনগণ গুঁড়েবালি দিয়েছে। তারা আবু সাঈদের রক্ত ঝরিয়েছে, যারা মুগ্ধের রক্ত নিয়েছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনার ফাঁসি দিতে হবে।
জবি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আজকে যারা জবিতে জকসুর জন্য আলাদা আলাদা প্যানেল তৈরি করছে, তারা লীগের জন্য আজকে এক হয়ে গিয়েছে। আমরা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই এজন্য। তবে আজকে আমরা দেখতে পাই, জুলাইয়ের ভূমিকা রাখা কেউ কেউ অংশ নেয়নি আজকে। আমরা জানতে চাই, কেন এত দ্রুত এই বিভাজন। এই বিভাজনের জন্য লীগ লকডাউন ঘোষণা করার মতো সাহস করছে। আমরা লীগকে এই দেশে পুনরায় আসতে দেব না।
জবি শিবিরের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ে আমরা শিক্ষক-শ্রমিক-শিক্ষার্থী এভাবে আজকের মতোই একত্র হয়ে আন্দোলন করেছিলাম। আমরা ঘোষণা দিতে চাই, আওয়ামী লীগ পুরান ঢাকায় যদি কোনো কার্যক্রম করতে চায়, তবে শুধু শিক্ষার্থীরা না, পুরান ঢাকায় সবাই তাদেরকে রুখে দেবে। আমরা ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী সবাইকে আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা আমাদের ডাকে সাড়া দেবেন। লীগকে যে-ই প্রাসঙ্গিক করতে যাবে, সে-ই বাংলাদেশ থেকে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। এই পুরান ঢাকাকে প্রত্যেকটা জনগণের রক্ষা করতে হবে।