রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ শুরু আজ
তবে এবার কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছাড়াই সংলাপে বসবে কমিশন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংলাপ শুরু হচ্ছে। তবে এবার কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছাড়াই সংলাপে বসবে কমিশন।
প্রথম দিনে দুই দফায় ১২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী ধাপে অন্য নিবন্ধিত দলগুলোকেও সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগকে সংলাপে ডাকা হচ্ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংলাপে অংশ নেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বিকেলে সংলাপে অংশ নেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।
এর আগে গতকাল বুধবার গণঅধিকার পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাক্ষাৎ করে সংলাপ বিষয়ে মতামত জানায়। দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিবন্ধনের অজুহাতে জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলকে সংলাপে ডাকা উচিত নয়। তাদের অংশগ্রহণে সংলাপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
দলটির পক্ষ থেকে ইসিকে একটি লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছে—‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ২০২৪ সালের তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই তাদের কোনো দলকে সংলাপে না ডাকার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেসব দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে, শুধুমাত্র তাদেরই নির্বাচন কমিশনের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো উচিত।’
চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, ‘যদি আওয়ামী লীগের শরিকদের সংলাপে ডাকা হয়, তবে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে পারে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপকে কমিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।