তারেক রহমান
‘দুর্বল’ সরকারকে হুমকি নয়, ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হোন
দেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি দিনে দিনে নাজুক হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন; জনগণের সমর্থনে গঠিত নির্বাচিত সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫
দেশে যখন জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে, ঠিক তখন কিছু রাজনৈতিক দল অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দুর্বল’ সরকারকে কোনো হুমকি ধামকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হোন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি দিনে দিনে নাজুক হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রয়োজন; জনগণের সমর্থনে গঠিত নির্বাচিত সরকার।
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল নানা শর্ত দিয়ে বর্তমানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। এতে তারা নির্বাচন না করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ গ্রহণ করা ও পতিত পলাতকদের পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
পলাতক স্বৈরাচাররা, ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি দলের ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছে কিনা, গণভোটের আড়ালে পতিত স্বৈরাচারদের রাষ্ট্র ও সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ করছে কিনা সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, আমি আবারো ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সহযোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, বর্তমান দুর্বল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হুমকি ধামকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণের মুখোমুখী হোন। আমাদের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মনে রাখা দরকার নিজ নিজ দলীয় সমর্থক নেতাকর্মীদের বাইরেও কিন্তু অরাজনৈতিক কিংবা নির্দলীয় এক বিশালসংখ্যক জনগোষ্ঠি রয়েছেন। এই লাখো কোটি অরাজনৈতিক কিংবা নির্দলীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়া রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের গুরুত্ত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। ২০২৪ ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
সুতরাং, ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-ভৌগোলিকরাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে চাই তাহলে আমাদের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহী জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা অপ্রয়োজনীয় সংকট। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ বাধাগ্রস্ত করে, জনগণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করতেই সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।