Logo
EN
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পার্ক দখলমুক্ত করার দাবি

‘মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন’-এর ব্যানারে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ অভিযোগ জানান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পার্ক দখলমুক্ত করার দাবি

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে রাজধানীর শহীদ তাজউদ্দিন পার্কে নতুন করে দখলের অভিযোগ তুলেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহায়তায় ‘বৃক্ষ সেবা ও ছাদবাগান সহায়তা কেন্দ্র’ স্থাপনের নামে পার্কের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশনা ও আইন লঙ্ঘন। অবিলম্বে এ দখল বন্ধ করে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও পার্ক জনগণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ) ‘মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলন’-এর ব্যানারে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ অভিযোগ জানান।

বিবৃতিতে তারা জানান, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে শহীদ তাজউদ্দিন পার্কে ফুটবল টার্ফসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে মাঠ ও পার্ক ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করে চুক্তি করেন। বর্তমান প্রশাসনও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে এবং এখন গ্রীন সেভারর্সের মাধ্যমে নতুন দখলের সুযোগ তৈরি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, খেলা ও বিনোদনের মাঠ, পার্কে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে নাগরিকদের বিনোদনের স্থান সংকুচিত করা হচ্ছে।” তারা বলেন, বৃক্ষ সেবা ও ছাদবাগান সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই পার্ক বা খেলার মাঠের অভ্যন্তরে হওয়া উচিত নয়।

বিশিষ্টজনরা অবিলম্বে এ ধরনের চুক্তি বাতিল করে আদালতের নির্দেশনা ও মাঠ-পার্ক-জলাধার রক্ষা আইন অনুসারে মাঠ ও পার্ক পরিচালনার দাবি জানান। একই সঙ্গে শিশুদের খেলার অধিকার হরণ করে শহীদ তাজউদ্দিন পার্ক গুলশান ইয়ুথ ক্লাব এবং গ্রীন সেভারর্সের ব্যবসায়িক স্বার্থে তুলে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের দখলের কারণে পার্কে শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে ও বিনাবাধায় খেলার সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ মাঠে বিভিন্ন স্থাপনা করছে, যা আইনের পরিপন্থি। গত আগস্ট মাসে পরিবেশকর্মীরা প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরে গ্রীন সেভারর্সকে নতুন অনুমোদন দেন, যা আগের দখল প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে ‘মাঠ, পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও উদ্যান আইন’-এর ধারা ৫ উদ্ধৃত করে বলা হয়, এ ধরনের জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন বা ভাড়া-ইজারা নিষিদ্ধ। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট উভয়ই মাঠ ও পার্ক বাণিজ্যিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং মাস্টারপ্ল্যান বহির্ভূত স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

বিবৃতিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ডিএনসিসি’র এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি, মাঠ ও পার্ক শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিকসহ ১১ বিশিষ্টজন। তারা হলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, সিটিজেন নেটওয়ার্কের নির্বাহী আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব ও নাঈম উল হাসান, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক সুশান্ত কুমার সিনহা, সেভ ধানমন্ডি প্লেগ্রাউন্ডসের সংগঠক সৈয়দ ইসতিয়াক আহমেদ, সংস্কৃতিকর্মী ও তথ্য অধিকার বিশেষজ্ঞ হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং মাঠ, পার্ক, জলাধার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য ইব্রাহীম খলিল।

আরও পড়ুন