Logo
EN
×

Follow Us

ফিচার

ঢাকায় যদি ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকত…

যানজটে বিশ্বে নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থান দখল করা ঢাকার জন্য এই কল্পনাটি কেবল আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটি একটি জরুরি পরিকল্পনা।

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকায় যদি ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকত…

যানজটবিহীন ঢাকার এক শান্ত সকাল, যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে সাইকেল আর পাখির কিচিরমিচিরই প্রধান অনুষঙ্গ। ছবি: সান গ্রাফিক

সকাল ৯টা। প্রগতি সরণি, ফার্মগেট কিংবা মতিঝিলের মোড়- কোথাও নেই বিকট হর্নের চিৎকার, নেই নিষ্ক্রিয় গাড়ির দীর্ঘ সারি। শুধু কল্পনাই নয়, এই শান্ত স্নিগ্ধ সকালটি হতে পারে আমাদের ঢাকা শহরেরও বাস্তবতা।

যদি রাজধানী থেকে সমস্ত ব্যক্তিগত গাড়ি উধাও হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে আমাদের জীবন? এটি কেবল যানজটমুক্তির স্বপ্ন নয়, এটি একটি নির্মল, স্বাস্থ্যকর ও মানবিক শহরের স্বপ্ন। যানজটে বিশ্বে নিয়মিতভাবে শীর্ষস্থান দখল করা ঢাকার জন্য এই কল্পনাটি কেবল আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটি একটি জরুরি পরিকল্পনা।

ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে ঢাকার সকালগুলো হবে অন্যরকম। ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের বদলে শোনা যাবে পাখির ডাক, সাইকেলের খটখটে বেল বা পথচারীদের বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপন।

ফুটপাতগুলো হবে প্রশস্ত, নিরাপদ ও ভিড়মুক্ত। মানুষ দুশ্চিন্তা ছাড়াই পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারবে, পথে চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চলবে সকালের আড্ডা। হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো মানুষকে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে।

বায়ুদূষণ, যা ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরের তকমা দিয়েছে, তা অনেকটাই কমে আসবে। ফুসফুস থাকবে সতেজ। গবেষণায় দেখা গেছে, যানজটে আটকে থাকা মানুষের মানসিক চাপ মারাত্মকভাবে বাড়ে; গাড়িবিহীন ঢাকায় সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মিলবে চিরমুক্তি।

গাড়ির জন্য বরাদ্দ চওড়া রাস্তা বা পার্কিং লটগুলোর দরকার ফুরোবে। সেইসব জায়গায় গড়ে উঠবে পার্ক, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি কিংবা সামাজিক কেন্দ্র। শিশুরা বাড়ির সামনের রাস্তায় নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারবে।

গাড়িমুক্ত ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে এর নগর বিন্যাসে। নগর পরিকল্পনার আধুনিক ধারণা, ‘ফিফটিন মিনিট সিটি’, তখন আমাদের বাস্তবতা হবে। প্রতিটি পাড়া হয়ে উঠবে একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট।

হাঁটাপথের দূরত্বের মধ্যেই পাওয়া যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু- স্কুল, বাজার, ক্লিনিক, অফিস এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। দীর্ঘ যাতায়াতের প্রয়োজন না থাকায় মূল্যবান সময় বাঁচবে, যা মানুষ পরিবার, বন্ধু বা নিজের শখের পেছনে ব্যয় করতে পারবে।

ব্যক্তিগত গাড়ি নেই মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থা থেমে থাকবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বরং যোগাযোগের ক্ষেত্রে আসবে বিপ্লব। শহরজুড়ে থাকবে মেট্রোরেল, লাইট রেল, ইলেকট্রিক বাস এবং ট্রামের উন্নত, সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। এই উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা বিপুল সংখ্যক মানুষকে দ্রুত ও আরামে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।

জরুরি প্রয়োজনে থাকবে আধুনিক, দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি দূরবর্তী গন্তব্যের জন্য দ্রুতগতির ম্যাগলেভ ট্রেনের মতো অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত ঢাকা কেবল একটি কল্পনাপ্রসূত ইউটোপিয়া নয়, এটি এমন একটি শহরের নকশা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পথে হাঁটার জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত মানসিকতার পরিবর্তন এবং দূরদর্শী নগর পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন