চুয়াডাঙ্গা
জীবননগরে শিক্ষকের উন্মুক্ত পাঠাগারে শুভসংঘের বই উপহার
এই পাঠাগারটি এখন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক নির্বিশেষে গ্রামের মানুষের কাছে জ্ঞানের এক আলোকবর্তিকা।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
‘শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়- এটি হলো মানুষ গড়ার এক অবিরাম যাত্রা।’ এই মন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত জ্ঞানের আলো ছড়াতে ব্যয় করেছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম।
অবসর গ্রহণের পরও থেমে থাকেনি তাঁর সেই আলোর যাত্রা। নিজের স্বপ্ন ও অর্থ দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি উন্মুক্ত পাঠাগার, যার দরজা গ্রামের সকলের জন্য খোলা।
জীবননগর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, ২০০৭ সালে দৌলতগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর নিজের সঞ্চিত অর্থ এবং ধার কর্জ করে তিনি বই সংগ্রহ করে এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিশ্বাস- ‘যেখানে বই, সেখানেই আলোকিত মানুষ।’ এই পাঠাগারটি এখন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক নির্বিশেষে গ্রামের মানুষের কাছে জ্ঞানের এক আলোকবর্তিকা।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সারাজীবন শিশুদের পড়িয়েছি। এখন চাই, গ্রামের মানুষ বই পড়ুক, আলো দেখুক। বই-ই পারে মানুষকে পরিবর্তন করতে।’
তার এই মানবিক উদ্যোগের কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে শুভসংঘ তাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
শুভসংঘের স্বপ্নদ্রষ্টা ও দুই বাংলার বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন তাঁর লেখা অসংখ্য বই উপহার হিসেবে এই পাঠাগারের জন্য পাঠান। সম্প্রতি জীবননগর উপজেলা শুভসংঘ কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে বইগুলো নুরুল ইসলাম স্যারের হাতে তুলে দেন।
বই হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত নুরুল ইসলাম স্যার বলেন, ‘এই বইগুলো একদিন আমার থেকেও বড় কিছু হয়ে উঠবে। আমি শুধু বীজ বপন করছি, ফল পাবে আমাদের সমাজ।’
নুরুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন, অবসর মানে শেষ নয়, বরং নতুন করে আলো বিলানোর শুরু। বসুন্ধরা শুভসংঘের সহযোগিতায় তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সারাদেশে বই ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে বলে আশা করা যায়।