EN ☀️
×

Follow Us

অন্যান্য

মিজানের চোখে লিসবনের ঈদ

ঈদের সকালে নতুন জামা পরে খেজুর বা হালকা কিছু খেয়ে নেন মিজান। এরপর পরিবারের সবাই মিলে ঈদের নামাজ আদায় করতে যান।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম

মিজানের চোখে লিসবনের ঈদ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে মিলন। আর প্রবাসে ঈদ মানে যেন দেশের স্মৃতি আর বিদেশের পরিবেশে নতুন করে এক হওয়ার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বসবাসকারী মিজানুর রহমান এবং তার পরিবারের জন্য ঈদের সকালটা শুরু হয় ঠিক সেভাবেই, যেভাবে শুরু হতো বাংলাদেশের কোনো এক শহরে।

ঈদের সকালে নতুন জামা পরে খেজুর বা হালকা কিছু খেয়ে নেন মিজান। এরপর পরিবারের সবাই মিলে ঈদের নামাজ আদায় করতে যান। লিসবনে সাধারণত স্থানীয় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পার্ক অথবা বড় খোলা জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মেসকুইতা সেন্ট্রাল দে লিসবোয়া, অ্যাসোসিয়াসাও ইসলামিয়া দে লিসবোয়া, কিংবা পারকুই এদুয়ার্দো সেভেন- এইসব জনপ্রিয় স্থানগুলোতেই মিজানরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে শুরু হয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। কোলাকুলি করে ‘ঈদ মোবারক’ বলে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন তারা। এরপর পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রবাসে ঈদের এই দিনটি যেন সম্পর্কগুলোকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

মিজান এবং তার পরিবার শুধু দাওয়াত গ্রহণই করেন না, নিজেদের বাসায়ও বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানান। এই দিনে তাদের রান্নাঘরে তৈরি হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সেমাই, গরুর মাংসের বিরিয়ানি, কাবাব আর নানান ধরনের মিষ্টি। কখনো কখনো হালাল রেস্টুরেন্ট থেকেও বিশেষ খাবার ও মিষ্টান্ন অর্ডার করে নিয়ে আসা হয়, যা প্রবাসের ঈদ উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

কুরবানির ঈদে মাংস বিতরণের বিষয়টি পর্তুগালের মুসলিম কমিউনিটির মধ্যেও বিশেষভাবে পালিত হয়। লিসবনের মুসলিমরা কোরবানির মাংসের এক ভাগ স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে দান করেন, যা ত্যাগের মহিমাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

শুধু খাওয়া-দাওয়া বা সাক্ষাৎ নয়, ঈদের পরের দিনগুলোও মিজান পরিবার বিনোদনমূলকভাবে কাটান। পার্ক বা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যাওয়া তাদের ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবার নিয়ে কাসকাইস, আলমাদা ও বেলেমের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে যান মিজান, যা তাদের ঈদের উৎসবকে পূর্ণতা দেয়।

আরও পড়ুন