EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে: বিরোধীদলীয় নেতা
অ অ

জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার, সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগ শেষে মুক্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর সহকর্মী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাদের মধ্যে ফিরে এসেছেন। এ জন্য তারা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। আখতারুজ্জামান কোনো অন্যায় করেননি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলির সংকট, লাগেজ থেকে মালামাল চুরি এবং অন্যান্য অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করেছিলেন আখতারুজ্জামান। তার প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হলেও তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়। 

তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আখতারুজ্জামান আত্মসমর্পণ না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরেও বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন যাত্রীরা আগের তুলনায় দ্রুত লাগেজ পাচ্ছেন। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, আখতারুজ্জামান যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল। তার প্রতিবাদের সুফল সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে প্রবাসীরা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ শুধু দেশের মানুষ করেননি, প্রবাসীরাও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাওয়ের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে কারও কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে কিংবা মামলা দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। আখতারুজ্জামান প্রমাণ করেছেন, তারা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না। তারা ভয় করেন একমাত্র মহান আল্লাহকে।

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও অদক্ষতার সমালোচনা মোকাবিলা না করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে লাভ হবে না। বিরোধী দলের চরিত্র হননের চেষ্টা বাদ দিয়ে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে হবে। জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারলে তারাই সরকারকে সমর্থন করবেন। অতীতের মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, সুসময়ে অনেকেই পাশে থাকেন, কিন্তু দুঃসময়ে তাদের অনেককে পাওয়া যায় না। তাই সাময়িক সমর্থন ও প্রশংসায় বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের উচিত জনগণের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, জনগণের পক্ষে, ন্যায় ও সত্যের পক্ষে এবং ইসলামের পক্ষে কথা বলার সাহস তাকে মহান আল্লাহ দিয়েছেন। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আখতারুজ্জামান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গ্রেপ্তার করতে হলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে হবে। কারণ, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু মেনে নেবেন না। একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারে তার আপত্তি নেই। তবে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আখতারুজ্জামান বলেন, তার চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন জানতে চাইবে? বাংলাদেশের আইন পুলিশকে এমন এখতিয়ার দেয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এভাবে দেশ পরিচালনা করতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। 

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবেন তিনি। তার মতে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবাসীদের সমস্যা, অধিকার ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন