EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

গণদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত: প্রিন্স

ধুরাইলে ১০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ব্যয় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

গণদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত: প্রিন্স
অ অ

গণবিক্ষোভ বা লংমার্চের নামে গণদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গঠনমূলক বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে দেশ পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের উত্তর রামনগর (বনপাড়া) এলাকায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট ধুরাইল ইউনিয়ন হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের দাবি উত্থাপন, সরকারের সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। বিএনপি সরকার সেই অধিকারকে সম্মান করে। তবে দাবি উত্থাপনের নামে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা কিংবা জনগণের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে অপপ্রচার চালিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে সরকারকে লালকার্ড দেখাতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে নির্বাচনের ফলাফল বিরোধী দলের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণ এখন নেতিবাচক রাজনীতির পরিবর্তে ইতিবাচক রাজনীতি দেখতে চায়। অপপ্রচার ও উসকানি দিয়ে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা গেলেও জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় না। এ জন্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি প্রত্যাশা করে। অথচ বিরোধী দলের একটি অংশ গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ভুলে আওয়ামী লীগের ধারার নেতিবাচক ও সংঘাতমুখী রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরুক, জনস্বার্থে বিকল্প প্রস্তাব দিক এবং সংসদ ও রাজপথে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করুক। তবে গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। গণতন্ত্রে দাবি আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের বিষয়ে সতর্ক করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে যারা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে অবস্থান নিতে হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হাসপাতাল নির্মাণ

ধুরাইল ইউনিয়ন হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিনি ভুলে যাননি, ভুলবেনও না। নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা অপরিবর্তিত রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন। ধুরাইল ইউনিয়নে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সাধারণ চিকিৎসার জন্যও অনেক সময় উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে হয়। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রামের মানুষ নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে হাসপাতাল

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচির (আইআরডিপি) অর্থায়নে এজেকেএস ফাউন্ডেশন ও সোহাগ ট্রেডার্স কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ধুরাইল ইউনিয়নের উত্তর রামনগর (বনপাড়া) এলাকায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

হাসপাতালটি চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে ২৩ জনের সরাসরি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে সেবাখাতে আরও অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, হাসপাতালটি চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শুক্রবার বিকেলে পূর্ব রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধুরাইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া, সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির, আইআরডিপির এপিডি কুতুবুল আলম, সোহাগ কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান আকিকুল ইসলাম সোহাগ এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ, মোস্তফা মাস্টার, এমদাদ মেম্বার ও আরিফ রব্বানী।

আরও পড়ুন