মেয়র হওয়ার চেয়ে নগরীর সমস্যা সমাধান করতে চাই: ইশরাক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘‘মেয়র কে হবেন, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো নগরীর বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাই।’’ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধীন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে তাঁকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা বলেছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করছেন। তবে কে মেয়র হবেন, তার চেয়ে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধান এবং মন্দির নির্মাণের বিষয়টিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “আপনাদের সমস্যা এবং আপনাদের মন্দিরটা যাতে নির্মাণ হয়, আমি এই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমি আমার জোরালো ভূমিকা অবশ্যই রেখে যাব।”
নগরীর সমস্যা সমাধানে নিজের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগর নিয়ে কাজ করছেন। রাজনীতির শুরু থেকেই নগরের বিভিন্ন সমস্যা এবং নাগরিক বিষয়ক কর্মসূচিতে তাঁকে সম্পৃক্ত রেখেছে দল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি পক্ষ থেকে বরাদ্দ এনে মন্দিরের কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতা করবেন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস কলোনির বাসস্থান ও সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর বাবা মেয়র থাকাকালে সম্ভবত কলোনিটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল অথবা শেষ হয়েছিল। আগের তুলনায় পরিবেশের উন্নতি হলেও আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার, যাতে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম শিক্ষাগ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
এলাকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ ও ভোটারদের সমর্থন একজন রাজনীতিবিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য আজীবন কাজ করে যাবেন। এলাকাবাসীর সমর্থন থাকলে তাঁদের উত্থাপিত সমস্যাসহ অন্যান্য বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন বলে উল্লেখ
মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই যুদ্ধ চলমান থাকবে, ইনশা আল্লাহ। এই যুদ্ধ আমরা করে যাব।”
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ শত শত বছর ধরে ঢাকায় পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পূজার আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন।