সরকার জুলাইকে ধারণ করে না, গণভোটের রায়ও মানছে না: গোলাম পরওয়ার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না এবং গণভোটের রায়ও মানছে না। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের সাত মাসের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। সরকার নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে না—বিএনপির এমন অভিযোগও হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিভিন্ন সাংবিধানিক, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি কর্মকমিশনেও দলীয়করণের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, চব্বিশের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা এমন দলীয়করণের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় জামায়াতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, দলের আমির আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ ছাড়া জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে জামায়াতের উদ্যোগে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় তিনটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি তহবিল থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না এবং জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের পথে যাচ্ছে। তাঁর মতে, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ জনগণের মতামতকে পাশ কাটানোর শামিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নিজেদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে অনড় থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করছে। সংবিধান সংস্কার না করে বর্তমান কাঠামো বহাল রাখলে ভবিষ্যতে যে প্রধানমন্ত্রীই ক্ষমতায় আসুন, তাঁর মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার যোগ না দেওয়া নিয়েও কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ না করে তাঁকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণের সমালোচনা করলেই বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী বা জুলাইবিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এভাবে বিরোধী দলের আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সরকার অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের জোট করার অভিযোগও নাকচ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াত জাতীয় পার্টি ও বাম দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। তবে সেটি কোনো জোট ছিল না। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বিএনপির সমালোচনা করেন।
এ ছাড়া আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল, রাজশাহীর একটি সম্মেলন বন্ধ করা এবং মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। এসব ঘটনাকে দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার উদাহরণ বলে দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
-6ad7013e7b513.jpg)
