EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

দুর্গোৎসবে ফ্যাসিবাদী আমলের চেয়ে সরকারি সহযোগিতা বেড়েছে: প্রিন্স

ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

দুর্গোৎসবে ফ্যাসিবাদী আমলের চেয়ে সরকারি সহযোগিতা বেড়েছে: প্রিন্স
অ অ

ফ্যাসিবাদী শাসনামলের চেয়ে এবার নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসব আরও ব্যাপক পরিসরে উদ্‌যাপিত হচ্ছে এবং সরকারি সহযোগিতাও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ময়মনসিংহের ২৫৭টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে জেলা পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহে প্রথমবারের মতো জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকার এসব মণ্ডপে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার মিলনায়তনে পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সহায়তার চেক বিতরণকালে প্রিন্স এসব কথা বলেন। এ সময় ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া ও গৌরীপুর উপজেলার পূজামণ্ডপের জন্য চেক দেওয়া হয়।

বিকেলে মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, সন্ধ্যায় নান্দাইলে এবং রাতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চেক বিতরণ করা হয়।

জেলা পরিষদ কার্যালয়ে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ- সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার ও জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস। মুক্তাগাছার অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, নান্দাইলের অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী এবং ঈশ্বরগঞ্জের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহেল মাজেদ বাবু উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ কার্যক্রম চলবে।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এটি ব্যয়বহুল আয়োজন। ঐতিহাসিকভাবে রাজা-মহারাজা ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ পূজার আয়োজন করা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজন রাজবাড়ি ও জমিদারবাড়ির সীমানা পেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে সম্মিলিত উদ্যোগে আনন্দ, উৎসাহ ও মর্যাদার সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দেয়। এ সহায়তা শুধু আর্থিক অনুদান নয়; এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামল ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেরিয়ে এবার নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসব আরও ব্যাপক পরিসরে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। উৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি সরকারি ছুটি ও পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে। এতে ধর্মীয় উৎসবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সহজ করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। পূজামণ্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। সাধারণ বরাদ্দের চাল ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ, ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রিন্স বলেন, ধর্ম পালন ও ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে বিএনপি সব সময় সব ধর্মের মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিএনপি এমন বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় কারও অধিকার, মর্যাদা কিংবা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে বিএনপি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা দলটির রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, দুর্গোৎসবসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রিন্স আরও বলেন, এবার বিএনপি জাতীয়ভাবে পূজামণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। দলের স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রতিটি মণ্ডপে পূজা উদ্‌যাপনে মণ্ডপ কমিটিকে সহযোগিতা করছেন।

আরও পড়ুন