খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ত্যাগেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: রিজভী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে নিজের রক্ত দিয়েছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা নাজির উদ্দিন জেহাদ। তার আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা বিকশিত হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন ও কারাবরণের মতো নিপীড়ন সহ্য করেও খালেদা জিয়া আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, প্রবাসে থেকেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন এগিয়ে যায়। তার ভাষ্য, এসব ত্যাগ ও সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নব্বইয়ের পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তি ও চব্বিশের পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি একই সূত্রে গাঁথা। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৭ বছরে দেশে লুটপাট, ব্যাংক খালি করা, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং গুম-খুনের রাজনীতি চালানো হয়েছে। এখনো প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে।
প্রশাসনে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, যারা ক্রসফায়ার দিয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে এবং জনগণের অর্থ লুটপাট করেছে, তাদের বিষয়ে কোনো শিথিলতা দেখানো যাবে না। সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ পাশে থাকবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে আসছেন। তবে পরাজিত অপশক্তি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার এবং মণ্ডপগুলো পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ও সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ১৯৯০-এর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বেগম রোকেয়া হলের সাবেক ভিপি শিরীন সুলতানা এমপি, ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ ১৯৯০-এর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা।