মেজর আখতার বিএনপিতে থাকাকালীনও শৃঙ্খলা মানতেন না: রিজভী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
মেজর আখতারের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপিতে থাকাকালীনও তিনি কোনো শৃঙ্খলা মানতেন না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে কমল কুঁড়ির রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন রিজভী।
মেজর আখতারের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এমন কোনো কাজ করলে জামায়াত নিজেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সেখানে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা থাকলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে। তবে কর্তব্যরত সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর চড়াও হওয়া বা তাদের গায়ে হাত তোলা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
একই অনুষ্ঠানে রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিরও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, প্রবাসীরা কোনো একক রাজনৈতিক দলের নন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতি ও লাখ লাখ পরিবারের বেঁচে থাকার অন্যতম চালিকাশক্তি। এই চালিকাশক্তি বন্ধের হুমকি দিয়ে বিরোধী দল কী অর্জন করতে চায়, এর পেছনে কোনো গুপ্ত পরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রিজভী রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে দেশবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স শুধু সরকারকে সহায়তা করার জন্য পাঠানো হয় না, পরিবারের সদস্যদের জন্যও পাঠানো হয়। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি বন্ধ করতে চাওয়া কখনোই দেশের স্বার্থে রাজনীতি হতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রচনা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় মোট ৭ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তাঁদের মধ্যে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আগ্রহ ও আবেগের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কবিতা পাঠ, সংগীত ও খেলাধুলার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে।
২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল না হওয়ায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে একসময় হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। তাদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বরাজনীতি সম্পর্কে জানার প্রথম পাঠশালা হিসেবে অভিহিত করেন রিজভী। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি শুধু মিছিল ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, মেধা ও মননশীলতার চর্চায় মনোযোগী হতে হবে।
দার্শনিক নিৎশের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, মহৎ অর্জনের জন্য পরিশ্রম, সাধনা ও দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা প্রয়োজন। ছাত্রদলকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে হলে মিছিল-স্লোগানের পাশাপাশি মেধা ও মননশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীনকে দেশের অলিখিত সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলের মেধাবী সদস্যদের উদাহরণ তুলে ধরে রিজভী বলেন, মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল নেতা ডা. আউয়াল চীনে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিকে পেছনে ফেলে ‘অ্যাম্বাসেডর’ নির্বাচিত হয়েছেন। আরেক ছাত্রদল নেতা আইইএলটিএসে ৮.৫ স্কোর অর্জন করেছেন। ছাত্রদল মেধাবীদের ঠিকানা হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।