দলে হাইব্রিডদের আনাগোনা বেড়েছে, সুপারিশও বাড়ছে: দুলু
সরকার মাজহারুল মান্নান, ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা হারিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দলে হাইব্রিডদের আনাগোনা ও সুপারিশের প্রবণতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, শুধু রংপুরে নয়, সারা দেশেই এ ধরনের অসংগতি দেখা যাচ্ছে। দল ক্ষমতায় গেলে অনেক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হারিয়ে যান, আর হাইব্রিডদের আনাগোনা বাড়ে। সুবিধাবাদীরা দলকে ব্যবহার করলেও দল বিপদে পড়লে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
আত্মীয়তার পরিচয় দিয়ে সুপারিশ করার প্রবণতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “তাকে আমি ১৭ বছর রাজপথে দেখি নাই, চিনি না, জানি না। পরিচয় দেন, ‘আমার খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুক হয় আমার’। এগুলো থেকে আপনাদেরও একটু সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অনেকেই নিজের কথা না বলে অন্যের সুপারিশ নিয়ে আসেন। এ ধরনের প্রবণতা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সুপারিশ নিয়ে এলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগে নিজের কথা বলতে বলেন বলেও জানান মন্ত্রী।
দুলু বলেন, দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মসূচি কিছুটা কমেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছেন। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে কর্মসূচির পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরেও নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। কখনো বিদ্যুৎ, কখনো জ্বালানি, আবার কখনো অটোরিকশা বা পূজার কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং পূজামণ্ডপগুলোতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
দুলু বলেন, গত ১০ বছরে মন্দিরগুলোতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে তাঁর মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীও তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে বরাদ্দের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরপিডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
এর আগে মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
