EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

আলেমদের ইমামতির মতো সমাজের দায়িত্বও নিতে হবে: জামায়াত আমির

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

আলেমদের ইমামতির মতো সমাজের দায়িত্বও নিতে হবে: জামায়াত আমির
অ অ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আলেমদের শুধু মসজিদের মিম্বার বা নামাজের ইমামতির দায়িত্ব নিলে হবে না। তাদের সমাজেরও দায়িত্ব নিতে হবে। জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে সমাজকে সঠিক পথে ফেরাতে ভূমিকা রাখতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের জাতীয় কাউন্সিল ও মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর ওহির ওপর হাত দেওয়ার এখতিয়ার কোনো মাখলুকের থাকতে পারে না। যখনই আল্লাহর ওহির ওপর হাত দেওয়া হয়েছে, তখনই দুনিয়া হেদায়েত ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। একমাত্র কিতাব হিসেবে কোরআনের দাড়ি-কমা, হরফ-হরকত বা কোনো কিছুতে সামান্য পরিবর্তন হয়নি। কিয়ামত পর্যন্তও হবে না।

জাতীয় সংসদে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বিল পাসের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির আলেমদের মুসলিম উম্মাহর অধিকার আদায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের আইন রচনা, পরিমার্জন, পরিবর্তন ও কর্তনের কাজ করে। সংসদের বিভিন্ন বিষয় পাস করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আল্লাহর ওহির ওপর হাত দেওয়ার এখতিয়ার কোনো মাখলুকের নেই।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভালো নেই। দেশের মানুষও ভালো নেই। সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ শঙ্কিত। শুধু খাওয়া-পরা নয়, ইজ্জত ও জীবনের নিরাপত্তার দিক থেকেও মানুষ কষ্টে আছে।

তিনি বলেন, কে কখন কোথায় হারিয়ে যাবেন, কিংবা কাকে কখন অপমান করা হবে, তার কোনো ঠিকানা নেই।

আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুই-একজনের ভুলের কারণে পুরো আলেম সমাজের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের চরিত্র কালো, তাদের মধ্যে সামান্য দাগও সহজে চোখে পড়ে না। কিন্তু যাদের চরিত্র ভালো, তাদের সামান্য দাগও বড় হয়ে দেখা দেয়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুগে যুগে জাতি যখন পথ হারিয়েছে, তখন উলামায়ে কেরাম জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। আলেমদের সেই রাহবারের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতিকে তিরস্কার না করে ভালোবাসা দিয়ে ইসলামের দিকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ইলমের চর্চা ও আমলের মাধ্যমে মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সা.) পথভোলা মানুষকে মেহেরবানী, দরদ ও দায়িত্ব নিয়ে তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। রেসালতের সত্যতা ও আখিরাতের পরিণতির কথাও মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, নবী করিম (সা.) জন্ম থেকে ওফাত পর্যন্ত দুনিয়ার শান্তি ভোগ করেননি। বরং আল্লাহর সৃষ্টির শান্তির জন্য নিজের শান্তি বিসর্জন দিয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সব সৃষ্টির রব এবং নবী (সা.) ছিলেন সবার প্রতি দরদী। এ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় উলামা বিভাগীয় কমিটির সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, মুফাসসিরে কোরআন মুফতি ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা কেএম আবদুস সোবাহান, ড. বিএম মফিজুর রহমান আজহারী ও ড. ফয়জুল হক।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আবু নোমান, মিরসরাইয়ের পীর মাওলানা আব্দুল মোমেন নাসেরী, মুহাদ্দিস মাওলানা হাফেজ আবু বকর সিদ্দীকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেমরা।

সম্মেলনে সারাদেশ থেকে পাঁচ শতাধিক মুফাসসির, বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহাদ্দিস, মুফতি, অধ্যক্ষ ও শীর্ষস্থানীয় আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন