EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

মেজরিটির ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে: গোলাম পরওয়ার

ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

মেজরিটির ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে: গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বিএনপির ঘাড়ে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত’ চেপেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। লংমার্চটি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে আয়োজন করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভূত বিরোধী দলের ওপর চাপেনি, ভূত চেপেছে বিএনপির ঘাড়ে। সেই ভূত হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূত।’ তাঁর দাবি, গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’ পড়ার পরও সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভোট দিয়েছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু সংসদে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল গণভোটের রায় বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহংকার ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণেই শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়েছিল। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটলে একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

রংপুরের আঞ্চলিক দাবির মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।

এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। লংমার্চের ঘোষিত দাবির মধ্যে ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

আরও পড়ুন