হাসিনার পথে হাঁটলে পরিণতি একই হবে: সরকারকে শফিকুর রহমান
ডেইলি সান রিপোর্ট, রংপুর
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার সরকারের পথ অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, একই পথে হাঁটলে সরকারের পরিণতিও আগের সরকারের মতো হতে পারে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জনগণের বিভিন্ন দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলছে। তিনি দাবি করেন, সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যেই পথে হাসিনা চলে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সেই পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। একই পথে হাঁটলে পরিণতিও একই হবে।’ সরকারের প্রতি দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হতে পারে। এর আগে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশেও তিনি একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
রংপুরের মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে আর অবহেলা করা উচিত নয়।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা শেষে রাতে রংপুরে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।