ডাকসু থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা মুছে ফেলার সুযোগ নেই: আ স ম রব
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ডাকসু সংগ্রহশালার বর্তমান প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক অর্জন ও তার পূর্বাপর সংগ্রামের ধারাবাহিকতাকে আড়াল করার একটি প্রবণতা দৃশ্যমান হয়েছে। ডাকসু থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা মুছে ফেলার সুযোগ নেই।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘ইতিহাস পুনর্বিন্যাসের নামে যদি ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও প্রতীকগুলোকে আড়াল করা হয় এবং তার বিপরীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে তা ইতিহাসের নির্মোহ উপস্থাপন নয়; বরং ইতিহাস বিকৃতির একটি চর্চা। আমরা মনে করি ইতিহাস কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ব্যক্তিগত বিবেচনায় নির্ধারিত হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘ডাকসু সংগ্রহশালা কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাস প্রদর্শনীর স্থান নয়। এটি বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। তাই ডাকসুর ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয় আনুগত্য কিংবা নির্বাচিত স্মৃতি নয়—ঐতিহাসিক সত্য, ধারাবাহিকতা, প্রেক্ষাপট ও নির্মোহতাই হতে হবে প্রধান বিবেচনা। কারো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে ইতিহাস নির্ধারিত হতে পারে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তার বক্তব্যের ছবি, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন—‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। জিন্নাহর এই বক্তব্য বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের সংগ্রাম বা ইতিহাসের অংশ নয়; বরং বাঙালির ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের সংগ্রামের বিপরীত অবস্থানের একটি ঐতিহাসিক দলিল।’
অথচ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার যে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতীক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের কোনো ছবি সংগ্রহশালায় স্থান পায়নি। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ছাত্রসমাজের সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত ৭ মার্চের ভাষণের ছবি যেখানে স্থান পেল না, সেখানে তার বিপরীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী জিন্নাহর বক্তব্যের ছবি স্থান পাওয়া প্রাসঙ্গিক নয়।
আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের কোনো অধ্যায় মুছে ফেলে নতুন কোনো রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরির জন্য সংঘটিত হয়নি। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম। অতএব, গণঅভ্যুত্থানের পর ইতিহাস পুনর্বিন্যাসের নামে যদি এক পক্ষের স্মৃতি মুছে অন্য পক্ষের প্রতীক প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে তা ইতিহাসের মুক্তি নয়; বরং ইতিহাসের আরেক ধরনের রাজনৈতিক ব্যবহার।’
তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।