বিরোধীদলের লংমার্চ কর্মসূচি জ্বালানি সংকট আরও বাড়াবে: প্রিন্স
ডেইলি সান রিপোর্ট,ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
জ্বালানি সংকটের মধ্যে গ্যাস-তেল ব্যবহার করে সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে অবিবেচনাপ্রসূত ও গণবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচিটি প্রত্যাহারের জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। হালুয়াঘাট পৌর শহরের উত্তর বাজার ধান মহালে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য ছয় মাস বয়সী বিএনপি সরকার কোনোভাবেই দায়ী নয়। বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই খাতে লুটপাট ও ভুল নীতির কারণে গ্যাসের স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো অজুহাত দিয়ে বিএনপি সরকার সমস্যা আড়াল করছে না। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বড় ধরনের ভর্তুকি ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটে পরিবহন, বিদ্যুৎ, রান্নাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। এমন সময়ে সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ হলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানিয়ে এমন কর্মসূচি সংকট আরও বাড়াবে। তাই এ কর্মসূচি গণবিরোধী, হঠকারী এবং গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
সারের বিষয়ে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সারের দাম বাড়ানো এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জনগণই দলটির মূল শক্তি। ৪৮ বছরে বিএনপি জনগণকে ছেড়ে যায়নি। ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে থাকবে।
তিনি বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে, সংকটে, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে শহীদ জিয়া ও মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তারেক রহমানও দেশ গড়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অকুতোভয় সৈনিকের মতো কাজ করছেন।
বিএনপিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সঙ্গে তুলনা করে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জাহাজ হামজা নদীতে ডুবে যাওয়া ভারী যানবাহন, নৌযান ও ফেরি উদ্ধার করে। তেমনি বিএনপি এবং শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিভিন্ন সংকটময় সময়ে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করেছেন। তারা সফলভাবে দেশ পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বিএনপি এক ও অবিচ্ছেদ্য। এটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ পথচলার প্রতিফলন। বাংলাদেশের স্বার্থ যেখানে, বিএনপির রাজনীতি সেখানেই।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও স্বপ্নকে ধারণ করেই বিএনপির রাজনীতি এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস ও বিনাশ করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বিএনপি অবিনশ্বর, বিএনপি অবিনাশী।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর।
সভায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, আব্দুল হাই, আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, মিজানুর রহমান, সফিকুর রহমান, মোনায়েম হোসেন খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মনিরুজ্জামান স্বাধীন, হুমায়ুন কবির, আনোয়ার হোসেন, তাজিকুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম ও মোখলেছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নীলু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমূর আরেফীন পাপন, শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল গণি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন খান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরে আলম জনি, তাঁতী দলের আকিকুল ইসলাম ও মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শেখ সাদিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।