হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ফ্যাসিস্টের তুলনা হয় না: রিজভী
ডেইলি সান রিপোর্ট, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনা চলে না।
রবিবার (১৬ আগস্ট) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। অনেক শ্রমিক, রিকশাচালক, হোটেলের বাবুর্চি ও সাংবাদিকও আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সাধারণ মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রথমেই রাস্তায় নামে না; তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তবে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দুঃশাসন মোকাবিলার একটি অদম্য শক্তি রয়েছে।
দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, যুগে যুগে এ দেশের মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। দুঃশাসন সহ্য করার ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের নেই। বিভিন্ন সময়ে তারা অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় বাংলা ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ কারণে ব্রিটিশদের এ দেশের প্রতি লোভনীয় দৃষ্টি ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ দেশে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।
সিরাজউদ্দৌলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেকেই সিরাজউদ্দৌলাকে দুর্বলচিত্তের মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন। অথচ তিনি দুইবার ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা পুনরুদ্ধার করেছিলেন। পরে অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
রিজভী বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য যারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছে, তা দেশের মানুষ মেনে নেয়নি। বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী নেত্রী খালেদা জিয়া সেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ধারাকে ধরে রেখেছেন। অসীম সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সুখে-দুঃখে ও সংকটে সবকিছু নিজের মধ্যে ধারণ করে তিনি এগিয়ে গেছেন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রত্যয়কে ধারণ করে প্রতিনিয়ত তিনি কাজ করেছেন।
রিজভীর অভিযোগ, আধিপত্যকামী বিভিন্ন শক্তি খালেদা জিয়ার এই অবস্থান মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সুস্থ অবস্থায় কারাগারে যাওয়া খালেদা জিয়া পরে হুইলচেয়ারে করে বেরিয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন, গুম-খুন, রিমান্ডের নামে নির্যাতনসহ নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর কারও মেলে না। অন্য ফ্যাসিস্টদেরও মেলে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।