EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা জামায়াতের

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা জামায়াতের
অ অ

দেশে ব্যাপক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নাগরিকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এ উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত রবিবার (৯ আগস্ট) থেকে দেশে ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

গোলাম পরওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। ১০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে। ১১ আগস্ট ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট। আর ১২ আগস্ট ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

এ হিসাবে গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বুধবার (১২ আগস্ট) দেশে গ্যাসের চাহিদা ছিল ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট চরমে উঠেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সরকারের এমন অব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। এ কারণে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

জ্বালানি সংকট বাড়ায় জনরোষও বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা জোরদারের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। তাঁর মতে, এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। দেশের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর প্রভাব পড়ছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরোনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। সংকট কমাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

এ ছাড়া শিল্পে গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো এবং এনার্জি কনভার্শনের নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করার দাবি জানান তিনি। তেল পাচার রোধ এবং সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থার কথাও বলেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, স্থলভাগের গ্যাস রিজার্ভার ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নতুন অনুসন্ধান কূপ ও উন্নয়ন কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে যে কোনো পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

আরও পড়ুন