আওয়ামী লীগের পাকিস্তান প্রসঙ্গ টানার পেছনে বিশ্লেষকেরা আরেকটি কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের বাড়তে থাকা সু-সম্পর্ক যেটা আওয়ামী লীগের সময়ে প্রায় তলানিতে ছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ, যাতায়াত যেমন বেড়েছে, বাণিজ্য, শিক্ষা, সামরিক পর্যায়েও সম্পর্ক এগিয়েছে।
গত বছর পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এবং দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। ঢাকা-করাচী সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার প্রসঙ্গও আলোচনায় আসে।
বিএনপি সরকারের সময়ে এসেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের দিক থেকে বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়গুলোও আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিপরীতমুখী বলে পাকিস্তান নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বলেও অনেকে মনে করছেন।
বাংলাদেশে গোয়েন্দা উপস্থিতি আছে?
সবশেষ ১০ আগস্ট ঢাকা সফর করেছেন ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর এমন সন্দেহ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
কিন্তু এখন বাংলাদেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতার অভিযোগ করছে আওয়ামী লীগ।
সবশেষ মে মাসে দুই বাংলাদেশ পাকিস্তানের মধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সেখানে এমন একটি কথার উল্লেখ রয়েছে যে ‘উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাদক পাচারকারী এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে’।
বাংলাদেশে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে এম সাখাওয়াত হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এবিষয়ে তার জানা নেই।
‘এখানে তো অনেকে বলে, যে ‘র’ ভর্তি হয়ে আছে, মোসাদ ভর্তি হয়ে আছে। তো আমরা তো জানি না’, বলছিলেন তিনি। তার মতে বর্তমানে প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানে মানুষকে পাঠানোর সেভাবে দরকার পড়ে না।
তবে ‘যেখানে যেখানে দূতাবাস আছে সেখানে সেখানে কিছু গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আবার যেসব বিশেষ ক্ষেত্রে মানব গোয়েন্দা উপস্থিতির প্রয়োজন পড়ে, সেসব ক্ষেত্রেও ভারত বা পাকিস্তানের নিজ দেশের লোকদের নিয়োগ করার চেয়ে বরং বাংলাদেশের মানুষকেই ব্যবহার করা হবে বলছেন এম সাখাওয়াত হোসেন।
এ ধরনের বিষয়গুলো সাধারণত বেশ গোপনীয় থাকে এবং সঠিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না।
‘বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, সবাই কাজ করে। আমরা কিছু বুঝতে পারি, কিছু বুঝতে পারি না,’ বলেন তিনি।
তবে তাদের মতে, জল্পনা কল্পনা অনেক ধরনের থাকলেও এ নিয়ে তথ্য উপাত্ত না থাকায় সঠিক তথ্য উল্লেখ করাও কঠিন।
তবে আওয়ামী লীগের অভিযোগগুলো ভারত বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এসব বক্তব্যের একটা নেতিবাচক প্রভাবই পড়তে পারে।