গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে ১১ দলের সমাবেশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১ দল। সমাবেশে নেতারা সরকারের সমালোচনা করেন এবং দ্রুত গণভোটের ফল ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নতুন আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন।
শনিবার বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া এই রায়কে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। দেশের মানুষের একটাই দাবি—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সেটি বাস্তবায়িত হলেই আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না জনগণ।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। দলীয়করণ ও দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনগণ যেমন শেখ হাসিনার সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তেমনি নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটের রায় মেনে নেওয়াই উত্তম। জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহীদ এবং দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হবে।
পরবর্তী আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার কর্মসূচির ডাক আসবে। সে জন্য ঘরে ঘরে আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, ছয় লেনের সড়ক দ্রুত শেষ করা, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ করার দাবি জানান।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদেরই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু সরকার জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচন শেষে সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষা করছে। শুধু সংবিধান সংশোধন নয়, জুলাই সনদের আলোকে প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে জনগণের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে পারবে না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলের ঐক্য ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য। সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেই আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে গণপরিষদ গঠনেরও দাবি জানান তিনি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দেড় বছরে সে ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। জনগণের কাছে দেওয়া রাজনৈতিক অঙ্গীকারও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. এমএ ইরান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের অনেক প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরু করা হবে।
নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী বলেন, গণভোটের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারবে না।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, অতীতের মতো এবারও গণভোটের রায় অস্বীকার করলে দেশ নতুন সংকটে পড়বে। জনগণের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জনগণকে ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরের আমির মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।