EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ
অ অ

ভারত কর্তৃক সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে শাহবাগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচির আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে প্রতিবেশী দেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, লেবার পার্টি, জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশইনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম- নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবারও মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছে এটি বর্ডার কিলিং নয়! তাহলে বর্ডার কিলিং কাকে বলে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে বুঝা দরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে। 

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়। আজকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়। তিনি, শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান।  

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করায় ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ পরিচালনা করছে। যারাই মোদির সনদে চলেছে তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।  

সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। জুলাইয়ে আকাঙ্ক্ষা ছিল- আধিপত্যবাদের দোসর ও ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভারতের আগ্রসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যেতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন

আরও পড়ুন