EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

জনরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না: বিরোধীদলীয় নেতা

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে দলীয়করণ ও ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে

ডেইলি সান রিপোর্ট, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

জনরায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না: বিরোধীদলীয় নেতা
অ অ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে সম্মান জানানো অপরিহার্য। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই তার জবাব দেবে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন না করে দলীয়করণ ও ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সংসদে জনগণের সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিদেশি শক্তির কাছে সমর্পণ করা হবে না। দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব অপসংস্কৃতির অবসান ঘটবে। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম চলবে সংসদেও, রাজপথেও। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা কিংবা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধী দল মিছিল করেছে বলে আজ কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে যে তথ্য তুলে ধরেছেন সেটি মিথ্যা ও ভুয়া। প্রধানমন্ত্রীর মতো রাষ্ট্রের নির্বাহী পদে বসে এমন ভুলভাল বক্তব্য প্রদান জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে আমাদের লজ্জিত করবে। 

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে জনগণ চরম দুর্ভোগে থাকলেও বাজেটে কার্যকর সমাধানের দিকনির্দেশনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় আরও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়বে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, গণরায় বাস্তবায়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়েই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সমাবেশ শেষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা।

আরও পড়ুন