ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা বাড়ছে, দলীয় গভর্নর পরিবর্তনের দাবি পরওয়ারের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
দেশের ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা ও সংকট ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং দলীয় বিবেচনায় গভর্নর নিয়োগের কারণে দেশের আর্থিক খাতে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় সমন্বিত হওয়ার পরও গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের চাপে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে লুটপাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের পরিবর্তে সরকার নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রমও গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এতে আমানতকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দেশের রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি ও শিল্প-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে ঘিরেও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চাপ প্রয়োগ করে অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অযোগ্য ব্যক্তিদের ব্যাংকের পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ছে এবং কোটি কোটি আমানতকারী ও উদ্যোক্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। তার ভাষ্য, আর্থিক খাতে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে না রাখার কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।
তিনি অবিলম্বে বর্তমান গভর্নরকে অপসারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, পেশাদার ও দক্ষ ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান বোর্ড পুনর্গঠন, এমডিকে স্বপদে ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের আইনের আওতায় এনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের অভিঘাত তৈরি হবে, যা সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।