EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

টঙ্গীতে গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে সরকার

ডেইলি সান রিপোর্ট, গাজীপুর

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

গণভোটের রায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করে সরকার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছে। পাঁচ কোটি মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে গৃহীত সংস্কারকে অস্বীকার করা জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।’

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গী তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটই সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি বহন করে। সংবিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ যখন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন তা অস্বীকারের সুযোগ নেই।’

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ৮৪ দফা সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ, গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধির বদলে প্রশাসক নিয়োগ দলীয়করণের প্রমাণ। এটি জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনার পরিপন্থি।’

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কৌশলে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফল প্রকাশ বন্ধ রেখে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে।’

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘জামায়াত একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। আমরা সহিংসতার পথে না গিয়ে জনগণের স্বার্থে সংসদে ও রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

সংসদে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সারা দেশে গণসংযোগ, বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার করা হবে।’

সাংগঠনিক বিষয়ে কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে যারা নতুনভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে, তাদের সংগঠনে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠন সম্প্রসারণ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

টঙ্গী পূর্ব থানা জামায়াতের আমির মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও পশ্চিম থানা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ খায়রুল হাসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সদর মেট্রো থানা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী প্রমুখ।

আরও পড়ুন