দীর্ঘ ৩৫ বছর পর মন্ত্রিসভায় বগুড়ার প্রতিনিধিত্ব
বগুড়ায় দুই সাংসদ ও এক প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা
২৩ বছর বয়সে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে আজ প্রতিমন্ত্রী। লক্ষ্য- শিবগঞ্জকে 'মডেল উপজেলা' হিসেবে গড়ে তোলা।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য ও এক প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে জেলায় জনমনে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা পেরিয়ে এখন জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা মোরশেদ মিলটন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বগুড়া থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় জেলায় উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সূত্র জানায়, বগুড়ার ইতিহাসে মন্ত্রিত্বের সুযোগ খুব বেশি আসেনি। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বগুড়া সদর আসন থেকে উপনির্বাচনে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় আর কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। ২০০১ সালে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে মন্ত্রিসভায় সরাসরি বগুড়ার প্রতিনিধিত্ব আসেনি। এবার সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।
মীর শাহে আলম ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা তৃণমূলের নেতা। তিনি ১৯৯৭ সালে ২৩ বছর বয়সে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
অন্যদিকে মোরশেদ মিলটন গাবতলী-শাজাহানপুর এলাকায় দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি করেছেন। তিনি ২ লাখ ৬৪ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ ভোট। নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ১৯৮৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেই দলের চেযারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন বনে যান। তিনি ২০০১ এ প্রথম পর্যায়ে পৌরসভার প্রশাসক এবং চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হন একটানা ২০১৪ পর্যন্ত। এরপর ২০১৪ তে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
সবশেষ তিনি তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় মনোনয়ন পান। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ওই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে র্নিবাচিত হন।
এদিকে এলাকায় খুব বেশি আলোচিত না হলেও বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আব্দুল মুহিত তালুকদার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপাচাচিয়া) আসন থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট পান। নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ২০০১ থেকে দুই দফা উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পরে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই আসন থেকে তার মরহুম বাবা আব্দুল মজিদ তালুকদার ৩ বার এবং বড় ভাই মরহুম আব্দুল মোমেন তালুকদার খোকা ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মো. আব্দুল আবদুল মুহিত তালুকদার জানান, মরহুম বাবা ও বড় ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাবা ও বড় ভাইয়ের সুনাম ও আদর্শ ধরে রাখবেন তিনি।
বগুড়া-৭ এর সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন ডেইলি সানকে জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিদের্শনা মতো যোগ্যতা অনুযায়ী নারী পুরুষের কর্মসংস্থানসহ এলাকার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আপামর জনসাধারণের সেবা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এছাড়া তার সংসদীয় এলাকায় সরকারি কোনো কর্মচারী-কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের দূর্ণীতি করতে দেবেন না।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার বাস্তবায়নের পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন।