EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে: মির্জা আব্বাস

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে বলা হলেও পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে, যা খুবই খারাপ। ভোট পাক বা না পাক—কিছু লোককে সংসদে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে: মির্জা আব্বাস
অ অ

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারও কারও প্রতি দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। সরকারের একটি মহল কিছু ব্যক্তিকে সংসদে পাঠানোর জন্য তালিকা করেছে বলে শোনা গেছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাটের মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় শেষে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, কয়েকজন প্রার্থী বলছেন, তারা আগেই জিতে গেছেন। আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন, তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে বলা হলেও পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে, যা খুবই খারাপ। ভোট পাক বা না পাক—কিছু লোককে সংসদে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে।

পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে সভায় তিনি বলেন, বছরের পর বছর জেল খেটেছি, আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথ সুগম হয়েছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। কেউ এককভাবে ২৪-এর দাবিদার হতে পারে না। কিন্তু এখন কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলছেন, যেন তারাই দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছেন।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনো ক্ষমতা বা মন্ত্রিত্ব দাবি করিনি। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়ত, আজ তারাই নানা দাবি করছে। কয়েক দিন আগেও সরকারের মধ্যেই তাদের প্রতিনিধিরা ছিল, এখনো আছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সামনে আরও কঠিন সময় আসতে পারে। এই সরকার হোক বা ভবিষ্যতের সরকার—বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী এখন ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন নিজেদের মতো করে নিতে চাইছে। 

বিএনপিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তারা সব সময় বলে—বিএনপি, বিএনপি, বিএনপি। ভাই, বিএনপি তো ১৭–১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাইতো নির্বাচনসূচি ঠিক করেছে, কমিশনে বসেছে, স্কুল-কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিএনপি কোথায়? বিএনপিতো সামনে আসছে, নির্বাচন জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন বিএনপিকেও টার্গেট করা হচ্ছে। ভাবসাপটা এমন—আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, এবার বিএনপিকেও তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

আব্বাস বলেন, আমি আগেও বক্তৃতায় বলেছি—কিছু মানুষ আছে, যারা মনে করে ক্ষমতা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। সুতরাং তারাই ক্ষমতায় থাকবে, তারাই ক্ষমতা নেবে। বিশেষ কিছু লোক—এই বিশেষ লোকদেরই ক্ষমতায় বসাতে হবে—এটাই একটি মহলের অভিপ্রায়। এ ধরনের চিন্তাভাবনার কথা আমাদের কানে আসছে।

কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশের সচেতন জনগণ সবসময় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে ভুল করেনি। তারা সবসময় সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছে। কিন্তু গত ১৮ বছর আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি।

আরেকটি বিষয় হলো—আমার এলাকার মানুষ ১৭–১৮ বছর কোনো এমপির চেহারা পর্যন্ত দেখেনি। শুধু নাম শুনেছে। কোথায় থাকেন, ঠিকানা কী—কেউ জানে না। আমি নিজেও খুঁজে পাইনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, সবসময় আপনাদের হাতের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও বলছি—আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে। বাসায় না পেলে ফোন দিয়ে জানাবেন—ইনশাআল্লাহ, আমাকে পাবেন।

আরও পড়ুন