লুটের অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটের মাঠ ছেড়ে আকাশেই উঠবে নির্বাচন: অ্যাডভোকেট বেলায়েত
চর অঞ্চলে স্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবি
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মুখপাত্র ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন আকাশে যাবে। পাশাপাশি জলদস্যু এবং স্থল দস্যুদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। যারা প্রকাশ্যে গুলি করছে। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। ভোটারদের মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান। এসময় তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগতির দক্ষিণাঞ্চল মেঘনার উপকূলীয় এলাকায় নির্বাচনকালীন স্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান।
জেএসডি শীর্ষ এ নেতা অভিযোগ করে বলেন, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজাম জলদস্যুদের একত্রিত করে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছে। প্রতিনিয়ত তাদেরকে নিয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা করছেন। বয়ারচরের ডাকাতদের নিয়ে চরে বৈঠক করেছে। হাতিয়ার ডাকাতদের ভাড়া করেছে। চরের সব দস্যুদের সে একত্রিত করেছে। বয়ারচরের চিহ্নিত ফরিদ ডাকাতকে সাথে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা অস্ত্র দেখায়, তাই ভোটাররা ভয়ে আছে। তারা ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) থেকে জেএসডির প্রার্থী, দলের সহ-সভাপতি তানিয়া রব এ নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে।
দলের মুখপাত্র বেলায়েত হোসেন আরও জানান, লক্ষ্মীপুর-৪ নির্বাচনি এলাকার চরাঞ্চলগুলোতে প্রায় লক্ষাধিক ভোটার রয়েছে। ওই অঞ্চল, হাতিয়া ও বয়ারচরের জলদস্যু এবং স্থল দস্যু সমন্বয়ে অস্ত্রধারী চিহ্নিত বাহিনী রয়েছে। তারা ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্স লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাই উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল চর রমিজ, বড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়নের স্থায়ী সেনাক্যাম্প স্থাপন করে অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা এসব বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
তিনি বলেন, গত ৮ জানুয়ারি রামদয়াল বাজারে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ, পরিকল্পিত হামলা করেছে। অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া করেছে। সরকারের সব সংস্থার ঘটনাটি অবগত। কিন্তু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করার জন্য অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি অধ্যাপক মনছুরুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।