EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

বই পড়ার অভ্যাসে কমে মানসিক চাপ, একাকিত্ব

ডেইলি সান রিপোর্ট, ফিচার

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

বই পড়ার অভ্যাসে কমে মানসিক চাপ, একাকিত্ব

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ব্যস্ত জীবনে একঘেয়েমি কাটানো কিংবা অবসর কাটাতে অনেকেই বই পড়েন। তবে বই পড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক সংযোগের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উঠে এসেছে একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায়।

গবেষকদের মতে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা তৈরি করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে কাগজের বই পড়ার সময় দীর্ঘক্ষণ একটি বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার সুযোগ থাকায় এটি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখে।

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত গবেষণা এবং জীবনযাপনবিষয়ক পোর্টাল রিয়েল সিম্পলে প্রকাশিত মার্কিন গবেষক লিসা মিলব্র্যান্ডের বিশ্লেষণে বই পড়ার এসব উপকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

শৈশব থেকে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে ভাষা, জ্ঞান ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলো সক্রিয় হতে পারে। নিয়মিত পড়ার ফলে নতুন তথ্য গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও মনে রাখার ক্ষমতাও উন্নত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্ককে সচল রাখার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে বই পড়া। নিয়মিত পড়ার অভ্যাস প্রবীণ বয়সে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা কগনিটিভ ডিক্লাইনের গতি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

আলঝেইমারের ঝুঁকি কমতে পারে

একাধিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বই পড়ার অভ্যাস প্রবীণ বয়সে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় এই ঝুঁকি প্রায় ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমার কথা বলা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, সপ্তাহে অন্তত একবার বই পড়ার অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

ছয় মিনিট বই পড়লেই কমতে পারে চাপ

মানসিক চাপ কমাতেও বই পড়ার প্রভাব রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ছয় মিনিট মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার পর শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে শুরু করে। একই গবেষণায় মানসিক চাপ প্রায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমার কথাও উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, মনোযোগ দিয়ে বই পড়া স্নায়ুকে শান্ত করতে এবং দৈনন্দিন চাপ থেকে মনকে কিছু সময়ের জন্য দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

একাকিত্ব কমাতে সহায়ক

বর্তমানে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বই মানসিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

একটি সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, বই পড়ার সময় তারা অন্য মানুষের সঙ্গে এক ধরনের গভীর মানসিক সংযোগ অনুভব করেন। আর ৫৬ শতাংশ বলেছেন, বইয়ের জগতে ডুবে থাকলে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি কমে।

শুধু একা বই পড়াই নয়, পাঠচক্র বা বুক ক্লাবের মাধ্যমেও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় ও সামাজিক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

বাড়ে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা

বিশেষ করে গল্প বা উপন্যাস পড়ার সময় পাঠক বিভিন্ন চরিত্রের আবেগ, সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। এতে অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা বাড়তে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া মানুষের মধ্যে সহমর্মিতার অনুভূতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভিন্ন মত বা ভিন্ন জীবন-অভিজ্ঞতার মানুষের প্রতি সহনশীলতাও তৈরি হতে পারে।

ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উৎসাহ দেয়

প্রায় চার হাজার পাঠকের ওপর করা একটি সামাজিক জরিপে দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া মানুষ বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন।

বইয়ের চরিত্রের পরিবর্তন ও সংগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ নতুন চাকরি খোঁজা, ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা, নতুন দক্ষতা শেখা কিংবা স্বাস্থ্যের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত হতে পারেন।

কাগজের বইয়ে মনোযোগ বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা বা বারবার নোটিফিকেশন দেখা বই পড়ার মতো গভীর মনোযোগ তৈরি করে না। কাগজের বই পড়ার সময় পাঠক দীর্ঘ সময় একটি বিষয়েই মনোযোগ দিতে পারেন। এতে চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি সক্রিয় রাখার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও বাড়তে পারে।

গবেষকদের মতে, প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা মস্তিষ্ক সচল রাখা, মানসিক চাপ কমানো এবং সামাজিক সংযোগ তৈরির একটি সহজ উপায় হতে পারে।

আরও পড়ুন