শিশুরা ফুলের মতোই, পবিত্রতা-সরলতা আর মায়ায় ভরা
এই ফুলের মতো শিশুরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, বরং বর্তমানেরও আনন্দ ও ভালোবাসার উৎস।
শিশুরা ফুলের মতোই। পবিত্রতা, সরলতা আর মায়ায় ভরা। ছবি: রবিউন নাহার
যান্ত্রিক এই শহুরে জীবনে যখন প্রতিযোগিতা, জটিলতা আর হিসেবের ভিড়ে আমরা হাঁপিয়ে উঠি, তখন এক লহমায় স্বস্তি এনে দেয় শিশুদের জগৎ। তারা জানে না বিদ্বেষ কী, জানে না স্বার্থপরতা কাকে বলে। পবিত্রতা, সরলতা আর অফুরন্ত মায়া নিয়ে তারা যেন আমাদের পৃথিবীর বাগানে ফোটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুল। এই কোমল সত্তারা শুধু আমাদের ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানেরও আনন্দ এবং ভালোবাসার উৎস।
পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত আমরা যা ভুলতে শুরু করি, তা হলো সরলতা। আর সেই সরলতা, পবিত্রতা এবং নিঃশর্ত ভালোবাসার জীবন্ত উদাহরণ হলো শিশুরা। তাদের হাসি, কান্নার মধ্যে কোনো খাদ থাকে না। প্রতিটি শিশু যেন এক-একটি খোলা বই, যেখানে লেখা আছে জীবনের সবচেয়ে খাঁটি সত্যগুলো। এই কারণেই শিশুরা ফুলের মতো কোমল এবং তাদের প্রতিটি মুহূর্ত মায়ায় ভরা।
কবিগুরু যেমন বলেছেন, ‘শিশুরা হলো স্বর্গের বীজ’- তেমনি প্রতিটি শিশু যেন পৃথিবীর বাগানে ফোটা এক-একটি সুগন্ধি ফুল।
এই ফুলের মতো শিশুরা শুধু ভবিষ্যৎ নয়, বরং বর্তমানেরও আনন্দ ও ভালোবাসার উৎস।
শিশুর মনের মতো সরল কিছু পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাদের পবিত্রতা কোনো নিয়ম বা আরোপিত মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল নয়, তা আসে তাদের ভেতরের সহজাত নির্মলতা থেকে। তারা সহজে হাসে, সহজে কাঁদে এবং তাদের ভালোবাসার প্রকাশ থাকে স্পষ্ট ও অকৃত্রিম।
আমরা বড়রা যখন জটিলতা আর হিসেব-নিকেশে জীবন কাটাই, তখন একটি শিশুর সহজ প্রশ্ন বা অকপট উত্তর আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই সরল সত্যগুলো, যা আমরা ভুলতে বসেছি। তাদের হাসি শুধু আনন্দ নয়, বরং জীবনের প্রতি এক ধরনের বিশুদ্ধ অঙ্গীকার। এই সরলতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা দিয়ে তারা সমস্ত বৈষম্যকে জয় করতে পারে।
শিশুদের মায়া বা স্নেহ হয় নিঃশর্ত। তারা জানে না বিদ্বেষ কী, জানে না স্বার্থপরতা কাকে বলে। মায়ের আঁচল বা বাবার হাতে তাদের নির্ভরতার যে বাঁধন, তা নিছক বিশ্বাস নয়, তা গভীর মায়ার প্রকাশ। কাজের শেষে ক্লান্ত অভিভাবক যখন ঘরে ফেরেন, তখন সন্তানের একটি উষ্ণ আলিঙ্গন মুহূর্তে সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়।
তারা হলো আশার প্রতীক। কারণ তারা পৃথিবী সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণাটি রাখে- যে পৃথিবী সুন্দর, খেলার জায়গা এবং ভালোবাসায় ভরা। একজন শিশুর মায়াময় চাহনি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা এবং যত্নই মানবজীবনের মূল চালিকাশক্তি।
ফুল যেমন কোমল ও ভঙ্গুর, তেমনি শিশুরা সংবেদনশীল। ফুলকে যেমন প্রকৃতির প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করতে হয়, শিশুদেরও তেমনি রক্ষা করতে হয় সমাজের রুক্ষতা, সহিংসতা এবং অবহেলা থেকে। একটি শিশুকে তার শ্রেষ্ঠত্বে বিকশিত হতে হলে প্রয়োজন পর্যাপ্ত যত্ন, নিরাপদ পরিবেশ এবং সঠিক শিক্ষা।
তারা যেন পূর্ণ আলো, বাতাস ও পুষ্টি পায়- সেই দায়িত্ব আমাদের, যারা তাদের অভিভাবক। প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের শৈশবকে সুন্দর ও নিরাপদ রাখা আমাদের সবচেয়ে বড় মানবিক কর্তব্য। কারণ আজকের সুরক্ষিত শৈশবই একদিন সমাজের দৃঢ় স্তম্ভ তৈরি করবে।
আসুন, এই পবিত্র, সরল ও মায়াময় ফুলগুলোকে যত্ন করি। তাদের হাসি যেন আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সুর হয়ে বাজে, সেই দায়িত্ব হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।