EN ☀️
×

Follow Us

অন্যান্য

পারিবারিক আদালতে কেন যাবেন, কখন যাবেন?

১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত পরিচালিত হয়।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৪ পিএম

পারিবারিক আদালতে কেন যাবেন, কখন যাবেন?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

পারিবারিক বন্ধন যতই আবেগের হোক না কেন, কখনও কখনও দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ বা সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে আইনগত সমাধানের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য রয়েছে বিশেষায়িত আদালত- পারিবারিক আদালত।

১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত পরিচালিত হয়।

কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকে, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কখন এই আদালতে যাওয়া উচিত? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

পারিবারিক আদালত মূলত ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি প্রতিকার দেয়। পারিবারিক সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো সমাধানে আপনাকে অবশ্যই এই আদালতে যেতে হবে-

বিবাহ বিচ্ছেদ: মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের পর যদি তালাক কার্যকর না হয় বা কোনো পক্ষ তালাক কার্যকর নিয়ে আপত্তি তোলে, তাহলে পারিবারিক আদালতে যেতে হয়। এছাড়া, তালাক কার্যকর সংক্রান্ত ঘোষণা বা সনদ লাভের জন্যও এই আদালতে মামলা করা যেতে পারে।

দেনমোহর: বিবাহবিচ্ছেদের পর অথবা স্বামীর মৃত্যু বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন হলে স্ত্রী তার অনাদায়ী দেনমোহরের টাকা আদায়ের জন্য এই আদালতে মামলা করতে পারেন।

ভরণপোষণ: স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বা খোরপোশের দাবি নিয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করা যায়। স্বামী ভরণপোষণ দিতে অস্বীকার করলে বা বকেয়া থাকলে স্ত্রী এই আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।

সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত: পিতামাতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বা বিচ্ছেদের পর নাবালক সন্তানের জিম্মা (হেফাজত) কার কাছে থাকবে এবং কে সন্তানের আইনি অভিভাবক হবে-এই নির্ধারণের জন্য পারিবারিক আদালত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম। এই আদালত সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়।

দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার: কোনো স্বামী বা স্ত্রী যদি ন্যায্য কারণ ছাড়া অন্যজনকে ত্যাগ করেন বা তার সঙ্গে বসবাস না করেন, তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ এই অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করতে পারে। আদালত তখন তাদের পুনরায় একসঙ্গে থাকার নির্দেশ দিতে পারেন।

পারিবারিক আদালতে যাওয়ার সময় ও পদ্ধতি

যখন বিবাদ চূড়ান্ত: যখন স্বামী-স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ব্যক্তিগত আলোচনা বা সালিশের মাধ্যমে কোনো সমাধান সম্ভব নয়, তখনই আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে: দেনমোহর, ভরণপোষণ বা অন্যান্য অধিকারের দাবিতে সাধারণত ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। তবে আইনি পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জেনে নেওয়া জরুরি।

বিচ্ছেদের চূড়ান্ত পর্যায়ে: তালাক বা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর যখন আইনি আনুষ্ঠানিকতা বা অধিকার আদায়ের প্রশ্ন আসে, তখন আদালতে যেতে হয়।

আদালতের এখতিয়ার: যে স্থানে স্বামী-স্ত্রী সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করেছেন অথবা যেখানে বর্তমানে স্ত্রী বসবাস করছেন, সেই এখতিয়ারভুক্ত পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়।

পারিবারিক আদালতের প্রক্রিয়া সহজ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। আদালতে যাওয়ার আগে আপস-মীমাংসার সকল পথ বন্ধ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন