পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দেওয়া ৫ ভয়াবহ ভূমিকম্প
এই পাঁচটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আমাদের শুধু মানুষের জীবনহানির ঘটনাই মনে করিয়ে দেয় না, বরং এটি দেখায় যে পৃথিবীর ভূগোল কতটা পরিবর্তনশীল।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্প এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শহর, গ্রাম, মানুষের জীবন- সবকিছু ওলটপালট করে দিতে পারে।
ইতিহাসে এমন অনেক বড় ভূমিকম্প আছে, যার প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই নয়, পৃথিবীর ভূগোল, উপকূলরেখা, এমনকি নদীর গতিপথ পর্যন্ত বদলে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো তেমনই পাঁচটি ভয়াবহ ভূমিকম্প, যা আজও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তালিকায় উপরের দিকে রাখা হয়-
১. চীনের শানসি ভূমিকম্প: ১৫৫৬ সালে চীনের শানসি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্প চীনের ইতিহাসে তথা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। মিং রাজবংশের জিয়াজিং সম্রাটের রাজত্বকালে হওয়ায় একে `জিয়াজিং গ্রেট ভূমিকম্প' নামেও ডাকা হয়। আনুমানিক ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যান। সেই সময় অনেক মানুষ গুহায় বসবাস করতেন, যা ধসে পড়ে ভয়ংকর ক্ষতি হয়। বিপর্যয়ের পর সেই এলাকার ভূমির উচ্চতা ও জমির আকারে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়।
২. চিলি ভূমিকম্প: ১৯৬০ সালের ২২ মে চিলিতে রিখটার স্কেলে ৯.৫ মাত্রার এই কম্পন ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূকম্পন। কম্পনের তীব্রতায় মাটি ফেটে যায়, বহু সেতু ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়। চিলির ভূগোলের অনেক অংশ পুরোপুরি বদলে যায়। এছাড়া, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সুনামি দূরবর্তী হাওয়াই, জাপান ও ফিলিপাইন পর্যন্ত আঘাত হানে।
৩. সুমাত্রা-আন্দামান ভূমিকম্প: ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের ভোরে সাগরের নিচে রিখটার স্কেলে ৯.১ থেকে ৯.৩ মাত্রার এক বিশাল শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে। এই কম্পন ভয়াবহ সুনামির জন্ম দেয়, যা ভারত মহাসাগরের চারপাশের ১৪টি দেশ কার্যত ধ্বংস করে। প্রাণ হারান প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ। উপকূলের ভূগোল বদলে যায়, কোথাও জমি ডুবে যায়, আবার কোথাও নতুন জমি তৈরি হয়।

৪. জাপানের তোহোকু ভূমিকম্প: ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের উত্তর-পূর্বে ঘটেছিল ৯.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার পরপরই বিশাল সুনামি আছড়ে পড়ে। এতে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জাপানের কিছু অঞ্চল কয়েক মিটার নীচে নেমে যায় এবং উপকূলের রেখাও পরিবর্তিত হয়।
৫. নেপাল ভূমিকম্প: ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প কাঠমান্ডু উপত্যকাকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঐতিহাসিক মন্দির, পুরনো স্থাপত্য এবং হাজারও ঘরবাড়ি ধসে পড়ে।ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, এই ভূমিকম্পে হিমালয়ের কিছু অংশে জমি সরে যায় এবং কিছু এলাকায় ভূমির উচ্চতা পরিবর্তিত হয়। এমনকি ভূমিকম্পের ফলে হিমালয় কয়েক সেন্টিমিটার নেমে যায়।
এই পাঁচটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আমাদের শুধু মানুষের জীবনহানির ঘটনাই মনে করিয়ে দেয় না, বরং এটি দেখায় যে পৃথিবীর ভূগোল কতটা পরিবর্তনশীল। ভৌগোলিক মানচিত্র নতুন করে আঁকতে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। প্রকৃতির শক্তির কাছে মানুষ কত অসহায়, এই ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ।