বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠী মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। ধর্মীয় ভাষায় কাবার দিকে মুখ করাটাই কিবলা। নামাজের জন্য মক্কাকে কিবলা মেনে নেওয়ায় সমস্যা নেই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মক্কাকে রাজনীতির কিবলা করতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এক মহাযুদ্ধবাজ ত্যাঁদড়। মুসলমান বিশ্বের জন্য ইসরায়েল বিষফোঁড়ার মতো। ফিলিস্তিন ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও ইসরায়েল যুদ্ধংদেহী আচরণ করে যাচ্ছে। হামাস নেতারা লুকিয়ে আছে—এই অজুহাতে ইসরায়েল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারে মিসাইল আক্রমণ চালিয়েছিল। তখন বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই ইসরায়েলের মারমুখী আচরণ থেকে নিরাপদ নয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান হয়তো আগেই এসব বুঝে ইসরায়েলের সঙ্গে কথিত আব্রাহাম অ্যাকর্ড করে নিয়েছে। অন্যান্য আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে বোঝাপড়ায় না গিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতায় গিয়েছে। ফলশ্রুতিতে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত, ওমান, জিবুতি, সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, সাইপ্রাস, তুর্কিয়ে ও ইরাকে অ্যামেরিকান সামরিক ঘাঁটি স্থাপিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঢালাও সামরিক উপস্থিতি ইরান, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননকে উদ্বিগ্ন করেছে। ফলে ইরান দাঁড়িয়েছে বিরুদ্ধ স্রোতে। শুধু তা-ই নয়, ইয়েমেনে হুতি, ফিলিস্তিনে হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে ইরান ইন্ধন দেওয়া শুরু করেছে।
ইয়েমেনে মিশরের আধিপত্য এবং হুতিদের উত্থান সৌদি আরবকে তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। আবার আব্রাহাম অ্যাকর্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতাকে সৌদি আরব যথাযথ মনে করতে পারছিল না। ফলে সৌদি আরব আউট অব দ্য বক্স সমাধান হিসেবে টেনে নেয় পাকিস্তানকে। ২০২৫ সালে সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি করে বসে পাকিস্তানের সঙ্গে।
সৈন্যসংখ্যা, সামরিক বাজেট ও সমরশক্তি বিবেচনায় পাকিস্তান চতুর্দশ বৃহত্তম দেশ। ইসরায়েল ও ইরানের অবস্থান তার নিচে। কেবল সৈন্যসংখ্যা বিবেচনায় নিলে পাকিস্তানের অবস্থান আরও উপরে।
সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তির টেক্সট প্রকাশ করা হয়নি। তবে সৌদি সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘একজনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মানে অন্যজনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।’
এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে বলা হতে থাকে যে তুর্কিয়ে যে কোনো সময় এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরান আক্রমণ করে বসে। ইরানও পাল্টা আক্রমণ করতে থাকে এবং ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অ্যামেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষবস্তু করে। এর মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত অ্যামেরিকান স্থাপনাও রয়েছে।
সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে মাঝেমধ্যে টানাপোড়েন এতটা তীব্র হয় যে তখন কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যন্ত ছিন্ন হয়ে যায়। সর্বশেষ তা হয়েছিল ২০১৬-তে। কিন্তু দুই বছর আগে, ২০২৩-এর মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সেই সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে ইরানের সফল প্রতিরোধের ফলে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোনদিকে যাবে, তা কেউই নিশ্চিত করতে পারছিল না। সৌদি আরব তো ইরানের সঙ্গে মাত্রই সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে সে স্বাভাবিকতার ওপর সৌদি আরব পুরোপুরি ভরসা করতে পারছিল না।
ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। পাকিস্তান যুক্ত হয় যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতায়।
এরকম পরিস্থিতিতে তুর্কিয়ে ও সৌদি আরব কৌশলগত বিবেচনা সামনে এনে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। ফলে সৌদি আরব-পাকিস্তান নিরাপত্তা চুক্তির সঙ্গে নতুন করে যোগ দেয় তুর্কিয়ে। ২০২৬-এর আগস্টে তিন দেশ মিলে স্বাক্ষর করে মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট।
পাকিস্তানের সৈন্যসংখ্যা পর্যাপ্ত। আবার পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তি। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নত। সৈন্যসংখ্যা বিবেচনায় ইউরোপের মধ্যে তুরস্ক শীর্ষে, ন্যাটোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরই তার অবস্থান। সমর প্রযুক্তিতেও তুরস্ক এগিয়ে।
সুতরাং পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরবের বিনিয়োগ সক্ষমতা যোগ হলে ত্রিদেশীয় সামরিক জোট নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের সামরিক সমীকরণ প্রভাবিত করবে।
এই চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো কালেক্টিভ সিকিউরিটি। ঠিক সামরিক জোট ন্যাটোর আর্টিক্যাল ফাইভের মতো এই ত্রিদেশীয় চুক্তিতে রয়েছে, any armed attack against any one of the three states shall be regarded as an attack against them all—অর্থাৎ, তিন দেশের যেকোনো দেশের ওপর সামরিক আঘাতকে প্রতিটি দেশের ওপর সামরিক আঘাত হিসেবে মনে করা হবে।
বলা হচ্ছে, এই চুক্তিতে আরও অনেক দেশ ক্রমান্বয়ে যুক্ত হতে পারে। মিশর ও কুয়েতের নাম এখনই শোনা যাচ্ছে। আরও শোনা গেছে বাংলাদেশের নাম।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ও বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত হওয়া হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নাকি ‘এই চুক্তিতে যুক্ত হতে তিনটি স্বাক্ষরকারী দেশ হতে আমন্ত্রণ পেয়েছে।’
এই আমন্ত্রণের কোনো রেফারেন্স অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিমন্ত্রীর কথাও তো ফেলে দেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি ‘এই চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে।’
প্রশ্ন হলো, আমন্ত্রণ পেলেই কি বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে?
এ বছরের জুন মাসের শুরুতে তুর্কিয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা তিনজনই তখন বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ও এই পুরো লটবহর উপস্থিত ছিলেন।
তখন অনুমান করা হচ্ছিল, তুর্কিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে চায়। কিন্তু সেই ক্ষেত্র কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তা খোলাসা করেননি।
৩০ জুন বাংলাদেশ হঠাৎ করে সৌদি-নেতৃত্বাধীন মাল্টিন্যাশনাল ম্যারিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্সে যুক্ত হয়েছে। অ্যালায়েন্সের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘The founding states affirm that establishing this multinational maritime defense alliance represents a strategic step toward enhancing maritime security in the Bab al-Mandab Strait, the Red Sea, and the Gulf of Aden; consolidating defense cooperation among member states; and supporting regional stability and prosperity.’
মোদ্দা কথা, বাংলাদেশ এমন একটা বহুপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হয়েছে, যা বাব আল-মানদেবসহ লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
আশ্চর্যের বিষয়, বাংলাদেশে এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। না জাতীয় সংসদে, না অন্য কোনো পাবলিক স্ফেয়ারে এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক হয়েছে।
জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনো সামরিক চুক্তির অংশ হয়নি। ম্যারিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নিশ্চিত একটি সামরিক চুক্তি।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা—এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন।’
সামরিক চুক্তির অংশ হলে কি শক্তিপ্রয়োগ পরিহার করা থেকে বাংলাদেশ ভিন্নপথে হাঁটছে না?
বাংলাদেশ তার জন্মের ৫৫ বছরে একবারও কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়নি। বাংলাদেশের যা পররাষ্ট্রনীতি, তাতে সেরকম সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
অপর দিকে, সৌদি আরব ইয়েমেনি হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষে লিপ্ত। ইরান ও ইসরায়েল থেকেও যুদ্ধের হুমকি রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত চলছে। সিরিয়া যুদ্ধেও তুর্কিয়ে জড়িত। আবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ না হলেও যুদ্ধের হুমকি রয়েছে।
পাকিস্তান তো ভারতের সঙ্গে নিয়ত যুদ্ধে জড়াচ্ছে। কাশ্মীর নিয়ে সশস্ত্র সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা। বালুচ ও তালেবানদের সঙ্গেও পাকিস্তানের সশস্ত্র সংঘাত বিদ্যমান।
ফলে সৌদি আরব, তুর্কিয়ে ও পাকিস্তানের জন্য সামরিক চুক্তি যত জরুরি, বাংলাদেশের জন্য মোটেই তা না। কিন্তু এই তিন দেশের যে কোনোটি যে কোনো কারণে যে কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে চুক্তির কালেক্টিভ সিকিউরিটি সংক্রান্ত আর্টিক্যাল অনুযায়ী তা বাংলাদেশের ওপরও বর্তাবে।
অর্থাৎ, এ চুক্তিতে যোগ দিলে একেবারে অপ্রয়োজনে বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। যে সরকার তার পররাষ্ট্র নীতিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ঘোষণা করেছে, অন্য দেশের যুদ্ধে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আয়োজন সেই সরকার কী করে করে?
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। অন্য দেশের যুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে সেই সশস্ত্রবাহিনী তার সুনাম নষ্ট করতে পারে।
এতে ‘শান্তিরক্ষী’ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রেডিবিলিটি শুধু না, চাহিদাও নষ্ট হতে পারে।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সৌদি সরকারের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য অতীব জরুরি। সেখানে বাংলাদেশের বিশাল স্বার্থ রয়েছে।
তুর্কিয়ে বা পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো। এই তিন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই ফলপ্রদ হবে। তবে তা যখন সামরিক সম্পর্ক, তখন বাংলাদেশের আরও একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে।
আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় মক্কা চুক্তি নিজেই কতটা উপযোগী হবে, সে বিতর্ক রয়েছে। এমন তো হতে পারে, উল্টো এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে। তখন প্রকারান্তরে ইসরায়েল লাভবান হবে।
যুক্তরাষ্ট্রও হয়তো তেমন কিছু চাইছে। কেননা ইরান যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে অন্তত তুর্কিয়ে ও পাকিস্তানের তো আর ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
আবার আরব আমিরাত আপাতদৃষ্টিতে বিরুদ্ধ স্রোতে দাঁড়িয়েছে। ভারত, ইসরায়েল, আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা কোয়াড তৈরি হয়েছে।
সেক্ষেত্রে সৌদি-তুর্কিয়ে-পাকিস্তান কি ইরানকে কাছে টানবে?
অতএব সাধু সাবধান! সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান দেশের কোনো উদ্যোগ দেখলেই তাতে সাড়া দেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্টটুকুই যেন ভাবতে পারি।
লেখক: মাহফুজুর রহমান, সাবেক বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত