রমনা পার্কের ফুল উৎসবে ঘুরতে এসেছেন দুই তরুণী। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
শীতের স্নিগ্ধ সকাল কিংবা গোধূলির নরম আলো- সবটা জুড়েই এখন যেন রঙের খেলা। ঢাকার ফুসফুস খ্যাত রমনা পার্ক এখন আর কেবল সবুজ বৃক্ষরাজির আধার নয়, বরং পরিণত হয়েছে এক বিশাল রঙিন ক্যানভাসে। সম্প্রতি শুরু হওয়া পুষ্প প্রদর্শনী ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রমনা পার্ক এখন রাজধানীবাসীর প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করলেই চোখে পড়ছে লাল, হলুদ, কমলা আর বেগুনি ফুলের সমারোহ। দর্শনার্থীদের তোলা রমনা পার্কের এই রঙিন ছবিগুলো নেটিজেনদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে ফুলের মাঝে তোলা ছবিগুলো ভার্চুয়াল জগতে এক চিলতে সতেজতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ ডালিয়া-চন্দ্রমল্লিকার স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, কেউবা গাঁদা ফুলের বিশাল গালিচার পাশে প্রিয়জনের মুহূর্ত বন্দি করছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিশেষ এই উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে দেখা মিলছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুলের। পদ্ম, গাঁদা, পেটুনিয়া, জিনিয়া, ডালিয়া, গোলাপসহ নানা জাতের ফুলের সমারোহে মুখরিত রমনা পার্ক। কুয়াশাভেজা সকালে বা বিকেলের নরম রোদে দর্শনার্থীরা মেতে উঠছেন ফুলের ঘ্রাণ আর সৌন্দর্যে। কেউবা মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্ত, কেউ আবার পরিবার নিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন অলস দুপুর।
রবিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ফুল উৎসব চলবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব বয়সের দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই উৎসব। ইট-পাথরের দালানকোঠার ভিড়ে যারা কিছুটা সতেজতা খুঁজছেন, তাদের জন্য রমনার এই শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশ এখন এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
সরেজমিনে রমনা পার্কে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথ থেকেই শুরু হয়েছে ফুলের অভ্যর্থনা। প্রদর্শনীতে সাজানো হয়েছে বিশালাকৃতির সব তোরণ। কোথাও ফুলের তৈরি স্তম্ভ, আবার কোথাও মাইলের পর মাইল বিছিয়ে রাখা হয়েছে হলুদ ও লাল গাঁদার সমারোহ।
মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে চন্দ্রমল্লিকা এবং ডালিয়ার ব্লকে। সারি সারি সাজানো বাহারি রঙের ফুল দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতির কোনো জাদুকর তার ঝুলি উজাড় করে দিয়েছে।
প্রদর্শনীতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘ফেসবুকে ছবি দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। যান্ত্রিক জীবনে এমন সতেজ দৃশ্য সত্যিই প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।’
ফুলের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের সাজপোশাকেও এসেছে বৈচিত্র্য। বাসন্তী রঙের শাড়ি, কপালে টিপ আর চুলে ফুলের মালা জড়িয়ে নারীরা মেতেছেন উৎসবে। প্রদর্শনীটি কেবল দেখার জন্য নয়, এটি এখন একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পরিবারের সাথে আসা শিশুদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
নগরবাসীকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনতে এবং দেশীয় ফুলের বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। রমনা পার্কে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকারীদের কাছে এই উৎসব বাড়তি আনন্দ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্মের কাছে নানা জাতের ফুলের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ এই আয়োজন।
বসন্তের আমেজ নিয়ে আসা এই ফুল উৎসবে যোগ দিতে আপনার হাতে সময় আছে মাত্র আর একদিন। যান্ত্রিক জীবনকে একপাশে সরিয়ে রেখে নিজেকে সতেজ করে নিতে আজই ঘুরে আসতে পারেন রমনা পার্কের এই রঙের ভুবন থেকে।
রাজধানীর কংক্রিটের দেয়াল আর জ্যামের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে রমনার এই পুষ্প প্রদর্শনী যেন এক পশলা প্রশান্তি। আপনিও যদি যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে চান, তবে পরিবারের সঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন রমনা পার্কের এই রঙের ভুবন থেকে। আর হ্যাঁ, সাথে ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না-কে জানে, আপনার তোলা ছবিটিই হয়তো পরের মুহূর্তে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাবে!