EN ☀️
×

Follow Us

গণমাধ্যম

ভিউয়ের দৌড়ে অপসাংবাদিকতা নয়, পেশাদারিত্বের আহ্বান অতিরিক্ত প্রেস সচিবের

ফটোকার্ড ও খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

ভিউয়ের দৌড়ে অপসাংবাদিকতা নয়, পেশাদারিত্বের আহ্বান অতিরিক্ত প্রেস সচিবের
অ অ

ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অপসাংবাদিকতা ও অপেশাদার সাংবাদিকতা থেকে বিরত থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম বর্তমানে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ পরিবেশন করছে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেস উইং আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমবান্ধব এবং সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সাংবাদিকরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “কিছু মূলধারার গণমাধ্যম এবং বিশেষ করে তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফটোকার্ড এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। রিলস বা সংক্ষিপ্ত ভিডিওর নামে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সমাজে অস্থিরতার সুযোগ তৈরি করে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না। খণ্ডিত বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন থেকে বিরত থাকুন। দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমেই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশ পুনর্গঠন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হবে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আতিকুর রহমান রুমন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন, যা দেশের মানুষের জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়। তবে এই আনন্দের মধ্যেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি সবার মনে নাড়া দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির সময় যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন, তখনও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন। ঈদের পরদিন তিনি নিজেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং কোথাও অব্যবস্থাপনা বা গাফিলতি পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা, কখনও কখনও ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এবং শাহারিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন