৫০-৩০-২০ নিয়মে বদলে যেতে পারে আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাসের ১ তারিখে বেতনের বার্তা আসার আনন্দ ১০-১৫ তারিখের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায়। বাড়িভাড়া, বিল, যাতায়াত ও বাজারখরচ মিটিয়ে মাসের শেষে অনেক চাকরিজীবীর হাত প্রায় খালি। তবে সঞ্চয়ের জন্য বড় অঙ্কের আয় লাগে না। বেতনের সামান্য অংশ নিয়মিত আলাদা করলেই গড়ে ওঠে আর্থিক ভিত্তি।
৫০-৩০-২০ নিয়ম
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই নিয়মে বেতন তিন ভাগ হয়। ৫০ শতাংশ যায় অপরিহার্য খরচে (ভাড়া, খাবার, বিল, যাতায়াত), ৩০ শতাংশ শখে (বাইরে খাওয়া, কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি) এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয়ে। বেতন পেয়েই এই ২০ শতাংশ আলাদা করে ফেলুন, বাকি ৮০ শতাংশে মাস চালান।
ছোট খরচ কমান
প্রতিদিন বাইরের চা-কফি, অপ্রয়োজনে রাইড শেয়ারিং আর ব্যবহার না করা স্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশন মাস শেষে বড় অঙ্কে দাঁড়ায়। এসব কমালে প্রতি মাসে কিছু টাকা বাঁচানো যায়। এই ছোট ছোট খরচগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে প্রতি মাসে অনায়াসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বাঁচানো সম্ভব।
কোথায় জমাবেন
টাকা শুধু ব্যাংকে ফেলে রাখলে অলস পড়ে থাকে এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে তার মান কমতে থাকে। তাই অল্প টাকাকে ধীরে ধীরে বড় করতে নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করা জরুরি:
• ব্যাংক ডিপিএস: অল্প অল্প করে জমানোর সবচেয়ে সেরা এবং নিরাপদ মাধ্যম হলো ডিপিএস। দেশের নির্ভরযোগ্য সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রতি মাসে ৫০০ বা ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ডিপিএস খোলা যায়। মেয়াদ শেষে এটি এককালীন বড় অংকের টাকা এনে দেয়।
• সঞ্চয়পত্র: আপনার যদি কয়েক মাসের সঞ্চয় জমে অন্তত ১০ হাজার বা তার বেশি টাকা হয়, তবে সরকারি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার বেশি এবং এটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত।
• প্রাইজবন্ড: মাত্র ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কিনেও বিনিয়োগ শুরু করা যায়। এটি যেকোনো ব্যাংক থেকে কেনা ও ক্যাশ করা যায়। প্রতি তিন মাস পর পর ড্র হয়, ভাগ্য ভালো থাকলে বড় অংকের পুরষ্কারও জিতে নিতে পারেন।
• শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ড: যাদের কিছুটা ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা আছে, তারা প্রতি মাসে অল্প অল্প করে ভালো কোনো কোম্পানির শেয়ার বা ‘মিউচুয়াল ফান্ড’-এ বিনিয়োগ করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এখান থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকে।
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা
আলবার্ট আইনস্টাইন চক্রবৃদ্ধি মুনাফা বা কম্পাউন্ডিং-কে পৃথিবীর ‘অষ্টম আশ্চর্যে’র সাথে তুলনা করেছিলেন। আপনি যদি প্রতি মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা করে ১০ বছরের জন্য কোনো ডিপিএস বা ফান্ডে জমা করেন (ধরে নিলাম ১০% বার্ষিক মুনাফায়), তবে মেয়াদ শেষে আপনার জমানো ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা সুদে-আসলে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকায় পরিণত হবে! সময় যত বাড়বে, টাকার পরিমাণ তত জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকবে।
টাকা জমানো বা বিনিয়োগ করার জন্য বড় অংকের বেতনের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু একটু ইচ্ছাশক্তি এবং নিয়মানুবর্তিতার। আজই আপনার চলতি মাসের বাজেট তৈরি করুন। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট ত্যাগই আগামী দিনে আপনার আর্থিক স্বাধীনতার পথ সুগম করবে।