EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

বারবার গ্যাসের দাম বাড়লে কীভাবে জ্বলবে মধ্যবিত্তের ঘরের চুলা?

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

বারবার গ্যাসের দাম বাড়লে কীভাবে জ্বলবে মধ্যবিত্তের ঘরের চুলা?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

এলপিজি গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের সীমিত বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত। এই আকস্মিক খরচ বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের মাসিক হিসাব ও জীবনযাত্রাকে খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। দফায় দফায় দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের জীবনে। যার আঁচ পড়ছে পরিবারগুলোর রান্নাঘরে।

প্রথমত, এই মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের নির্দিষ্ট আয়ের মাসিক হিসাবকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে। বাড়িভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন ও যাতায়াত খরচ অপরিবর্তিত থাকায় রান্নার গ্যাসের বাড়তি টাকা জোগাতে অন্য প্রয়োজনীয় খরচ কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে খুচরা বাজারের সিন্ডিকেট।

২০৬০ টাকার সিলিন্ডার বাস্তবে কিনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। ফলে কাগজের হিসাবের চেয়ে মধ্যবিত্তের পকেট থেকে অনেক বেশি টাকা খসে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মধ্যবিত্তের খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে। সিলিন্ডার বাঁচানোর তাগিদে রান্নার আইটেম কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভারী রান্না এড়িয়ে চলছেন গৃহিণীরা।

পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় কোনো বিকল্পও নেই। আবার বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় রাইস কুকার বা ইন্ডাকশন ওভেনে রান্না করাও সমান ব্যয়বহুল। 

অপরদিকে অনেক ভাড়া বাসায় গ্যাস সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্যাস পাওয়া যায় না। সিলিন্ডার কিনলেও মাস শেষে বাড়িওয়ালাকে গুণতে হচ্ছে গ্যাসের বিল।

পাশাপাশি শুরু হয়েছে পরোক্ষ খরচের এক চেইন রিঅ্যাকশন। যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে বেড়ে যাওয়ায় রিকশা, সিএনজি ও বাসের ভাড়া আকাশচুম্বী।

অন্যদিকে, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে এলপিজি ব্যবহৃত হওয়ায় পরোক্ষভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতা।

এই পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্তরা সরকারি সহায়তা পেলেও, মধ্যবিত্তরা লোকলজ্জার ভয়ে মুখ ফুটে সাহায্যও চাইতে পারে না। তাদের জমানো সঞ্চয় এখন শূন্যের কোঠায়।

এই লাগামহীন বাজারে রান্নার খরচে রাশ টানতে সচেতনতাই একমাত্র উপায়। রান্নাঘরে ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করে গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব।

রান্না শুরুর আগে সব কাটাকুটি ও মশলা গোছানো, বার্নারের মাপ অনুযায়ী ফ্ল্যাট তলদেশের পাত্র ব্যবহার এবং সবসময় ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করার পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।

শক্ত খাবার সেদ্ধ করতে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে এবং ফ্রিজের খাবার রান্নার ১-২ ঘণ্টা আগে বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে গরম করলে ৩০% পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় হয়।

এছাড়া চুলার আঁচ নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা এবং পরিমিত পানি ব্যবহার সিলিন্ডারের মেয়াদ অনেক বাড়িয়ে দেয়। 

আয়ের সাথে ব্যয়ের এই অমিলের যুগে এই প্র্যাকটিক্যাল টিপসগুলোই হতে পারে মধ্যবিত্তের টিকে থাকার হাতিয়ার।

আরও পড়ুন