EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

বছরের পর বছর শোকেসে প্লেট-বাটি সাজিয়ে রাখার কারণ কী?

প্রতিদিনের যাপনে আনন্দ ও ইতিবাচকতা বাড়াতে আজই খুলুন শোকেসের তালা

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

বছরের পর বছর শোকেসে প্লেট-বাটি সাজিয়ে রাখার কারণ কী?

প্রতিদিনের যাপনে আনন্দ ও ইতিবাচকতা বাড়াতে আজই শোকেসের তালা খুলে ব্যবহার করুন পরিবারের প্রিয় তৈজসপত্র।

অ অ

বাঙালি মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত প্রতিটি পরিবারেই একটি চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়। তা হলো— ড্রয়িংরুমের কাচের শোকেস বা ডাইনিংয়ের ক্যাবিনেটে থরে থরে সাজানো থাকে চোখধাঁধানো সিরামিক, বোন চায়না বা ক্রিস্টালের প্লেট, বাটি, গ্লাস ও কাপ-পিরিচ। ধুলোবালি থেকে মুক্ত রাখতে বছরের পর বছর সেগুলো যত্ন করে তালাবদ্ধ রাখা হয়।

বছরের বিশেষ কোনো দিনে দামি কোনো মেহমান এলে তবেই খোলে সেই শোকেসের তালা। আর পরিবারের সদস্যরা বছরের ৩৬৫ দিনই খাবার খান সাধারণ, কিছুটা পুরোনো বা দাগ লেগে যাওয়া মেলামাইন ও স্টিলের বাসনে।

প্রশ্ন হলো, নিজের ঘরের সুন্দর ও দামি জিনিসগুলো ব্যবহার করার অধিকার কি পরিবারের সদস্যদের নেই? কেন আমাদের এই আনন্দ শুধু মেহমানের আসার ওপরই নির্ভর করবে?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘরের সেরা জিনিসগুলো শুধু অন্যের (মেহমান) জন্য তুলে রাখা এবং নিজেদের জন্য সাধারণ জিনিস ব্যবহার করার এই অভ্যাসটি অবচেতন মনে একটি নেতিবাচক বার্তা দেয়। এটি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদের মনে এই ধারণার জন্ম দেয় যে— ‘আমরা নিজেরা হয়তো এই সুন্দর জিনিসগুলো ব্যবহার করার মতো যথেষ্ট যোগ্য বা মূল্যবান নই।’ অন্যের মূল্যায়নের চেয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের মানসিক সন্তুষ্টি যে অনেক বেশি জরুরি, এই সংস্কৃতি তা ভুলিয়ে দেয়।

এক সময় তৈজসপত্র বা ভালো বাসনকোসন বেশ ব্যয়বহুল ছিল। সহজে বাজারে পাওয়া যেত না এবং ভেঙে গেলে নতুন করে কেনার সামর্থ্য সবার সবসময় থাকত না। সেই অভাব ও সংরক্ষণের মানসিকতা থেকেই পূর্বপুরুষদের হাত ধরে এই ‘শোকেস সংস্কৃতি’র জন্ম। কিন্তু বর্তমান যুগে বাজারের সহজলভ্যতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও আমরা মজ্জাগত সেই অভ্যাস থেকে বের হতে পারছি না।

আজই কেন শোকেসের তালা খুলবেন?

জীবন সুন্দর এবং যাপন প্রতিদিনের। ভালো কাপড় যেমন আলমারিতে তুলে না রেখে নিয়মিত পরা উচিত, ঠিক তেমনি সুন্দর বাসনে খাবার খাওয়াও প্রতিদিনের যাপনে আনন্দ যোগ করে।

• পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে: ডাইনিং টেবিলে যখন প্রতিদিন সুন্দরভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়, তখন পরিবারের সদস্যদের খাবারের প্রতি আগ্রহ ও পারস্পরিক আনন্দ বাড়ে।

• ইতিবাচক মনস্তত্ত্ব: প্রতিদিনের খাবারে সেরা জিনিস ব্যবহার করলে নিজের প্রতি এবং পরিবারের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। এটি মানসিক প্রশান্তি দেয়।

• ব্যবহারেই সার্থকতা: জিনিসপত্র তৈরিই হয়েছে ব্যবহারের জন্য, শোকেসে প্রদর্শনীর বস্তু হিসেবে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়।

মেহমান অবশ্যই সম্মানের পাত্র, তাদের জন্য আতিথেয়তায় কোনো কমতি থাকা উচিত নয়। তবে সেই আতিথেয়তা যেন নিজের পরিবারের আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে না হয়। তাই মেহমানের জন্য অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর গুনে নিজের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোকে অবহেলা করবেন না। আজই শোকেসের তালা খুলে বের করে আনুন প্রিয় ডিনার সেটটি। আজকের রাত থেকেই পরিবারের সবাই মিলে মেতে উঠুন সুন্দর এক পারিবারিক উদযাপনে।

আরও পড়ুন