ক্লান্তি বা ঘুমের ঘাটতি থাকলে হাই ওঠা শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও যদি সারাদিন বারবার হাই ওঠে, তবে তা ভেতরের কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার সংকেত হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘অতিরিক্ত হাই তোলা’ বলা হয়। এই সমস্যার সম্ভাব্য কারণ ও করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন, তা জানা জরুরি।
হৃদ্রোগ: হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমলে বা রক্তসঞ্চালনে বাধা তৈরি হলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণও হতে পারে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া: এই রোগে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যায়। ফলে ঘুম গভীর হয় না, সারাদিন ক্লান্তি থাকে এবং বারবার হাই ওঠে।
স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন্স ডিজিজ বা ব্রেন স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও অতিরিক্ত হাই উঠতে পারে।
লিভারের জটিলতা: লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর সমস্যায় শরীর অস্বাভাবিক ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
ওষুধের প্রভাব: বিষণ্নতা বা অ্যালার্জির কিছু ওষুধের কারণে ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে।
করণীয়
বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। সকালে খোলা বাতাসে গভীর শ্বাসের ব্যায়াম করলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি কমে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ঘনঘন হাই ওঠাকে কেবল অলসতা বা ঘুমের অভাব ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। এর সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।