EN ☀️
×

Follow Us

জীবনযাপন

কক্সবাজারে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন? রিসোর্টে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সৈকতে যাওয়ার আগে রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা যাচাইসহ পাঁচটি সতর্কতা জানিয়ে রাখুন

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

কক্সবাজারে ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন? রিসোর্টে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠের রিসোর্ট। ছবি: বাসস

অ অ

শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের। এই ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ভিড় জমাবেন সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। তবে ভ্রমণের এই আনন্দের আবহ তৈরি হওয়ার আগেই আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি রিসোর্টে আগুন লেগে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আনন্দময় ছুটি এক নিমেষেই রূপ নিয়েছে চিরস্থায়ী বিষাদে। তবে এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে, রিসোর্ট বাছাইয়ে নিরাপত্তা ভাবনা কতটা জরুরি। ছুটি কাটাতে যাওয়ার আগে তাই জেনে নিন কয়েকটি সতর্কতা।

১. রিসোর্ট নির্বাচনে সতর্কতা

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ বা ইনানী সৈকত এলাকায় বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি নান্দনিক ইকো-রিসোর্টগুলোর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে মনে রাখতে হবে, এসব কটেজে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদান অত্যন্ত দাহ্য। ফলে ছোট একটি শর্ট সার্কিট বা মশার কয়েলের আগুন থেকেও মুহূর্তের মধ্যে পুরো কটেজে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এ ধরনের রিসোর্টে বুকিং দেওয়ার আগে তাদের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা কেমন, তা বুকিংয়ের সময়ই হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।

২. রিসোর্টে চেক-ইন করার পরপরই করণীয়

যেকোনো হোটেল বা রিসোর্টে ওঠার পর প্রথম কাজ হলো জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার রাস্তা বা ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ কোনটি, তা ভালো করে দেখে নেওয়া। আপনার রুমের কাছাকাছি বা করিডোরে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার বা ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার আছে কি না এবং সেটি সচল কি না, তা দেখে নিন।

অনেক সময় কাঠের কটেজগুলোতে লক বা ছিটকিনি জ্যাম হয়ে থাকে। জরুরি মুহূর্তে যেন দরজা সহজে খোলা যায়, তা রুমে ঢোকার পরপরই পরীক্ষা করে নিন।

৩. রুমের ভেতর আগুনের উৎস ব্যবহারে সাবধানতা

রিসোর্টে রাতে মশার কয়েল বা মোমবাতি জ্বালালে তা অবশ্যই খাট, মশারির পর্দা কিংবা কাঠের দেয়াল থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। ঘুমানোর আগে কয়েল পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ।

রুমের ভেতর ধূমপান করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা ফিল্টার অসাবধানতাবশত বিছানা, সোফা বা কার্পেটে পড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

৪. বৈদ্যুতিক গ্যাজেট ব্যবহারে সচেতনতা

ভ্রমণে গিয়ে একসঙ্গে ক্যামেরা, ফোন, পাওয়ার ব্যাংকসহ অনেক ডিভাইস চার্জ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। একই মাল্টিপ্লাগে অনেক বেশি হাই-ভোল্টেজ ডিভাইস কানেক্ট করলে ‘ওভারলোডিং’ থেকে শর্ট সার্কিট হতে পারে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বা রাতে ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় সব চার্জার প্লাগ থেকে খুলে রাখুন।

৫. জরুরি ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখা

ভ্রমণে যাওয়ার আগেই স্মার্টফোনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানার নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন। বিপদ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং রুমের ভেতরে আটকা পড়লে ভেজা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে ফ্লোরে শুয়ে পড়ার চেষ্টা করুন, কারণ ধোঁয়া ওপরের দিকে ছড়ায়।

ছুটি কাটানোর মূল উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে মুক্তি এবং মানসিক প্রশান্তি। আপনার ও আপনার পরিবারের এই আনন্দময় সময়টিকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের সময় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সস্তা অফার না দেখে, সুরক্ষার দিকটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন। সচেতন ভ্রমণই পারে অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক বিপর্যয় রুখে দিতে।

আরও পড়ুন