মেকআপ পাউডারে আটা-ময়দা থাকে না, থাকে খনিজ উপাদান। ছবি: ফ্রিপিক
কাউকে অতিরিক্ত মেকআপ করতে দেখলে আমাদের সমাজে অনেকেই মজা করে বলেন, ‘মুখে আটা-ময়দা মেখেছে।’ এই কথাটি শুনতে শুনতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—আমরা যে ফেসপাউডার ব্যবহার করি, তা কি আসলেই রান্নাঘরের আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি?
এর উত্তর হলো—একেবারেই না। আটা বা ময়দার সাথে মেকআপের কোনো মিল নেই। আটা বা ময়দা দিয়ে রুটি তৈরি করা যায়, কিন্তু মেকআপ নয়। যদি কেউ ভুল করেও মুখে আটা বা ময়দা মাখেন, তবে ঘামের সংস্পর্শে এলে তা আঠার মতো জমে যাবে। এতে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ এবং মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে।
‘আটা-ময়দা’ বলার কারণ
এর প্রধান কারণ হলো মেকআপের অন্যতম প্রধান উপাদান ফেস পাউডার, লুজ পাউডার বা ফাউন্ডেশনের টেক্সচার (গঠন) এবং সাদাটে রঙ দেখতে হুবহু আটা বা ময়দার মতো। এছাড়া কেউ যদি নিজের ত্বকের রঙের চেয়ে অনেক বেশি ফর্সা শেডের পাউডার মুখে মাখেন, তখন মুখটা অতিরিক্ত সাদা দেখায়। সাধারণ মানুষের চোখে এটিই তখন ‘ময়দা লেপে দেওয়া’র মতো মনে হয়।
ময়দা নয়, তাহলে মেকআপে কী থাকে?
আমরা যে মেকআপ পাউডারগুলো ব্যবহার করি, সেগুলোতে মূলত বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ কিছু খনিজ বা উপাদান থাকে। যেমন: ত্বক মসৃণ রাখতে ও তেল শুষে নিতে ট্যাল্ক, হালকা চকচকে ভাব আনতে মাইকা, সাদা রঙের কাভারেজ ও সূর্য থেকে সুরক্ষা দিতে টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড ও জিঙ্ক অক্সাইড, এবং তেল নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু প্রসাধনীতে প্রাকৃতিক ভুট্টার স্টার্চ বা চালের গুঁড়ো ব্যবহার করা হলেও সাধারণ গমের আটা বা ময়দা কখনোই মেকআপে থাকে না।
তবে কেন মেকআপকে ‘আটা-ময়দা’ বলা হয়? এটি মূলত একটি রূপক শব্দ। কেউ যখন ত্বকের রঙের সাথে না মিলিয়ে অতিরিক্ত মেকআপ করে মুখ অনেক বেশি সাদা বা কৃত্তিম করে ফেলে, তখন মানুষ ঠাট্টা করে তাকে আটা-ময়দা মাখার সাথে তুলনা করে।
তাই রান্নাঘরের আটা আর সাজগোজের মেকআপের রসায়ন সম্পূর্ণ আলাদা। মেকআপে আটা-ময়দা থাকার বিষয়টি কেবলই একটি সামাজিক প্রচলিত মিথ বা গুজব।