শীত আসার আগেই যে ৫ প্রস্তুতি নিতে হবে
জীবনযাপন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালেন্ডারের পাতায় এখনো শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটেনি। তবে শেষ রাতের হালকা হিমেল হাওয়া আর ভোরের কুয়াশা জানান দিচ্ছে—প্রকৃতির রূপবদল শুরু হয়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ শীতের প্রস্তুতি বলতে বোঝেন আলমারি থেকে ভারী কম্বল বের করা কিংবা নতুন ব্লেজার-সোয়েটার কেনা।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের আসল প্রস্তুতি নিতে হয় শরীরের ভেতর থেকে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে। শীত জেঁকে বসার আগেই দৈনন্দিন অভ্যাসে বদল আনলে ঠাণ্ডার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারে সহজে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন থেকেই যোগ করা যায় এই ৫ অভ্যাস—
১.
হুট করে একদিন খুব ঠাণ্ডা পড়লে আমাদের শরীর তা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। তাই এখন থেকেই এসি চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ করুন। ঘরের সিলিং ফ্যানের গতি কমিয়ে রাখুন, বিশেষ করে রাতে। ভোররাতে ফ্যান বন্ধ করে জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক বাতাস গায়ে লাগানোর অভ্যাস করুন। এটি আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে কম তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
২.
শীতের আসল প্রস্তুতি শুরু হয় আপনার রান্নাঘর থেকে। শীতের সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই এখন থেকেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ বাড়াতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন মরসুমি টক ফল (যেমন: আমলকী, লেবু)। কাঁচা হলুদ, আদা এবং কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস এখন থেকেই বাড়ান। রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধে সামান্য লবঙ্গ বা দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন, যা ফুসফুসকে উষ্ণ রাখবে।
৩.
আমরা সাধারণত ত্বক ফাটতে শুরু করলে কোল্ড ক্রিম বা লোশন খুঁজি। কিন্তু স্মার্ট লাইফস্টাইল হলো, ত্বক শুষ্ক হওয়ার সুযোগই না দেওয়া। এখন থেকেই গোসলের পর হালকা কোনো ময়েশ্চারাইজার বা নারকেল তেল ত্বকে মাখুন। এতে বাতাসের আর্দ্রতা যখন হঠাৎ কমে যাবে, আপনার ত্বক তখনো কোমল থাকবে। গোসলে অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহারের অভ্যাস পরিহার করে এখন থেকেই স্বাভাবিক বা কুসুম গরম জলের অভ্যাস করুন।
৪.
ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করলে আমাদের পানি পানের তৃষ্ণা কমে যায়, আর এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। শরীরে পানির ঘাটতি হলে শীতের দিনে চামড়া বেশি ফাটে এবং ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা বাড়ে। এখন থেকেই দিনে অন্তত ৩ লিটার পানি পানের লক্ষ্য ঠিক রাখুন। হালকা ঠাণ্ডা লাগার আমেজ তৈরি হলে পানি সামান্য কুসুম গরম করে পান করার অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তুলুন।
৫.
শীতের কাপড়গুলো গত কয়েক মাস ধরে আলমারিতে বন্দি হয়ে আছে। সেগুলোতে ধূলিকণা ও এক ধরণের ফাঙ্গাস জমে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। শীত জাঁকিয়ে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এগুলো বের করলে কাপড়ের ধুলো সরাসরি শ্বাসনালীতে গিয়ে অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমস্যা তৈরি করে। তাই এখনই সময়—ভারী জ্যাকেট, চাদর বা কম্বলগুলো বের করে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন কিংবা ড্রাই ক্লিন করে প্রস্তুত রাখুন।
প্রকৃতির পরিবর্তনকে আমরা রুখতে পারব না, তবে নিজের অভ্যাসকে বদলে তার জন্য আগাম প্রস্তুত হতে পারি। শীতের প্রথম দিনটি যেন আপনাকে বিছানায় শুয়ে কাশতে না হয়, তার জন্য আজ থেকেই শুরু হোক আপনার এই লাইফস্টাইল রদবদল।
ইমন/ডেইলি সান